পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পর ফের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) ইস্যু। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ নিয়ে আন্দোলন করে আসা রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের একাংশ এবার নতুন বিজেপি সরকারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। তাঁদের আশা, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত কেন্দ্রীয় হারে ডিএ চালু করবে নতুন সরকার। ১৫ বছর পর বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভই ভোটে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত দীর্ঘ টানাপড়েন রাজ্যের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।
২০১৮ সালে দীর্ঘ আন্দোলনের পরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় তাঁর ‘মিউ মিউ-ঘেউ ঘেউ’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীরা সেই মন্তব্যকে সরকারি কর্মচারীদের প্রতি অসম্মানজনক বলে অভিযোগ তোলে। পরে কলকাতা হাইকোর্টও ওই মন্তব্যকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছিল।
তার পর থেকে বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকার ও কর্মচারীদের সংঘাত আরও তীব্র হয়। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন পথে নেমে আন্দোলন করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলেই অভিযোগ। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ‘গ্রান্ট ইন এড’ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তৎকালীন সরকার গড়িমসি করেছে।
শিক্ষামহলের দাবি, অন্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশকে বকেয়া ডিএ দেওয়া হলেও বহু শিক্ষক সেই সুবিধা পাননি। এমনকি বাজেটে ঘোষিত অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ডিএ-ও শিক্ষকদের হাতে পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ। নির্বাচনের আগে আদর্শ আচরণ বিধির কারণে ডিএ কার্যকর করা যায়নি বলে জানিয়েছিল তৎকালীন সরকার। তবে শিক্ষকদের একাংশের দাবি, সেটি ছিল শুধুই অজুহাত।
গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের তরফে জমা দেওয়া ৬২ পাতার স্টেটাস রিপোর্ট নিয়েও আপত্তি ওঠে। রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার কর্মচারীকে বকেয়া ডিএ বাবদ ৪ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, সেখানে ‘গ্রান্ট ইন এড’ প্রাপকদের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকারের কাছে এখন ডিএ ইস্যুতে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তুলছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “তৃণমূল সরকার বার বার শিক্ষকদের বঞ্চিত করেছে। নতুন সরকারের কাছে আবেদন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হোক।”
নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাসের বক্তব্য, “আমরা আশা করছি নতুন সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে দ্রুত মহার্ঘ ভাতা প্রদানের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ করবে।” অন্যদিকে বিজেপি টিচার্স সেলের শিক্ষক নেতা দীপল বিশ্বাস দাবি করেছেন, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং সপ্তম পে কমিশন চালু করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।”
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর ডিএ ইস্যু আবারও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের বড় অংশ এখন অপেক্ষা করছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয় সেটাই দেখার। একই সঙ্গে নতুন সরকারের প্রথম কয়েকটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপরও নজর রাখছে শিক্ষক সংগঠনগুলি। ডিএ এবং সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হলে রাজ্যের লক্ষাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
আধার কার্ড আপডেট না থাকলে ব্যাঙ্কের কাজ থেকে শুরু করে সরকারি ভাতা— একাধিক পরিষেবায় সমস্যা…
সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) ২ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে সপ্তম পে…
আইপিএল ২০২৬-এ নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। টানা চার ম্যাচে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর…
টেট (TET) পাশ না থাকলে কি চাকরি হারাতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের? এই প্রশ্ন ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে…
রাজ্যে কর্মরত সর্বভারতীয় ক্যাডারের আমলাদের জন্য এবার ডিএ (Dearness Allowance) বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ…
শুক্রবার শতরান করে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে কার্যত একার হাতে জিতিয়েছেন ফিন অ্যালেন।…