কলকাতা শহরের বুকে হাজার হাজার মানুষের মাথার ওপর থেকে আপাতত সরে গেল উচ্ছেদের খাঁড়া। ব্রেস ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পূর্ব রেলের উচ্ছেদ অভিযানের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই রায়ের ফলে অন্তত সাময়িকভাবে স্বস্তি পেলেন প্রায় ৬,০০০ বস্তিবাসী পরিবার। রেলের উচ্ছেদ নোটিশ ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। আদালতের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য পূর্ব রেলের তরফে জারি করা ৯ মে ২০২৬-এর উচ্ছেদ নোটিশের কার্যকারিতা ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। আদালত জানায়, উচ্ছেদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আদালতে বস্তিবাসীদের তরফে দাবি করা হয়, পূর্ব রেল ‘সরকারি প্রাঙ্গণ (অননুমোদিত দখলদার উচ্ছেদ) আইন, ১৯৭১’-এর বাধ্যতামূলক নিয়ম না মেনেই উচ্ছেদের পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে আইনের ৪ ধারার অধীনে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং বাসিন্দাদের বক্তব্য জানানোর সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
ব্রেস ব্রিজ স্টেশন লাগোয়া এলাকায় বহু বছর ধরে বসবাস করছেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের অনেকেই দিনমজুর, ছোট ব্যবসায়ী বা নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী পরিবার। হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযানের খবর সামনে আসতেই এলাকায় চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বাসিন্দাদের আশঙ্কা ছিল, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই তাঁদের ঘরছাড়া হতে হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে। যদিও মামলার চূড়ান্ত রায় এখনও বাকি। ফলে আগামী দিনে রেল কর্তৃপক্ষ পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয় কি না, সেদিকেই নজর থাকছে।
বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণে বলেন, আবেদনকারীদের উচ্ছেদের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা বিচার করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে প্রতিপক্ষের আইনজীবীর তরফে সময় চাওয়ার আবেদনও আদালত গ্রহণ করেছে। এরপরই আদালত সীমিত সময়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করে। ফলে আপাতত উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারবে না পূর্ব রেল।
মামলাকারীদের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন অ্যাডভোকেট বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, শমীম আহমেদ, দীপাংশু কর, পূর্বায়ন চক্রবর্তী এবং রেশমা খাতুন। অন্যদিকে পূর্ব রেলের তরফেও আদালতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। আগামী শুনানিতে এই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী ২০ মে মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে ব্রেস ব্রিজ এলাকার হাজার হাজার পরিবার। আদালতের পরবর্তী নির্দেশের ওপরই নির্ভর করবে উচ্ছেদ অভিযান আদৌ এগোবে কি না এবং বাসিন্দাদের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে। এখন সকলের নজর আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং রেলের সম্ভাব্য পুনর্বাসন পরিকল্পনার দিকেই।
কয়েকদিনের কালবৈশাখী ও বৃষ্টির জেরে কিছুটা স্বস্তি মিলেছিল গরম থেকে। তবে ফের বদলাচ্ছে আবহাওয়ার পরিস্থিতি।…
তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা দেশের একাধিক রাজ্যে। এর মধ্যেই স্বস্তির খবর শোনাল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর…
পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতির মাঝেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফরে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর…
লাগামছাড়া দামে আরও এক ধাপ উর্ধ্বগতি। ফের একবার সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় বৃদ্ধি দেখা…
ক্ষমতায় এসেই একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চমক দিচ্ছে নতুন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে…
সরকারি কর্মী থেকে শিক্ষক, পেনশনভোগী— সকলের মুখে এখন হাসি। নতুন সরকার গঠনের পরেই বড় সিদ্ধান্ত…