দূরপাল্লার ট্রেনে (Indian Railways) সফরের সময়ে যাত্রীরা প্রথমেই চেষ্টা করেন যাতে টিকিট কনফার্ম করানো যায়। কারণ দূরপাল্লার সফরে আসন সংরক্ষিত থাকলে বড় চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু আসন সংরক্ষিত করলেও অনেক সময়ই সিট জবরদখলের অভিযোগ ওঠে। বিনা টিকিটের বা অসংরক্ষিত টিকিটের যাত্রীদের বিরুদ্ধে রিজার্ভেশন কামরায় ওঠার অভিযোগ ওঠে। অনেক সময়ই এইসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে এর সত্যতা প্রমাণ করা গিয়েছে। তাই এবার যাত্রীদের সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল ইস্ট সেন্ট্রাল রেলওয়ে।
কনফার্ম টিকিট থাকা সত্ত্বেও অনাকাঙ্ক্ষিত যাত্রীদের জবরদখলের জন্য কোনো যাত্রী যদি নিজের সংরক্ষিত সিট না পান সেটা নিঃসন্দেহে অবিচার। উপরন্তু বিনা টিকিটে বা অন্য টিকিটে যাত্রীরা ট্রেনে সফর করলে তাতে রেলের আয়েও ক্ষতি হয়। তাই যাত্রীরা যাতে সঠিক টিকিট ছাড়া যাতায়াত না করতে পারে সেদিকে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে ভারতীয় রেল। ইস্টার্ন রেলওয়ের তরফে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে এ বিষয়ে।
পাঁচটি বিভাগে আধিকারিকদের টিম গঠন করে স্টেশন এবং ট্রেনে টিকিট চেকিং অভিযান চালাচ্ছে ইস্ট সেন্ট্রাল রেলওয়ে। এই অভিযানে বড় সাফল্যও পেয়েছে ভারতীয় রেল। ইস্ট সেন্ট্রাল রেলওয়ের তরফে পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, দানাপুর বিভাগে প্রায় ১.২৩ লক্ষ বিনা টিকিটের যাত্রীদের থেকে ৭.৬৭ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সোনপুর মণ্ডলে বৈধ টিকিট না থাকা প্রায় ১.১২ লক্ষ যাত্রীদের থেকে ৭.৩২ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় বিভাগেও প্রায় ৫.৪৫ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে জরিমানা হিসেবে। পূর্ব রেলওয়েতেও চিত্রটা আলাদা নয়। আসানসোল ডিভিশনেই ২ কোটি টাকারও বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ সফর করেন বিভিন্ন ট্রেনে। দূরপাল্লার সফর হোক বা কাছাকাছি কোনো দূরত্ব, ভারতীয় রেলের সফরকালীন সুযোগ সুবিধার কথা মাথায় রেখেই পরিষেবার দিকে ঝোঁকেন অনেকেই। আর যাত্রীদের সুবিধার্থে নিত্য নতুন নানান ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে ভারতীয় রেল।














