রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই আবহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা তো হারিনি। হারলে পদত্যাগ করতাম।” পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, জোর করে কেউ তাঁকে পদত্যাগ করাতে পারবে না। এই মন্তব্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—যদি কোনও মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরও পদত্যাগ না করেন, তাহলে সাংবিধানিকভাবে কী হতে পারে? এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং।
বিকাশ সিংয়ের মতে, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদ অনেকাংশেই নির্ভর করে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর। কোনও সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণত এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে অতীতেও এমন বহু নজির রয়েছে যেখানে কোনও মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরও পদত্যাগ করতে চাননি। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে অন্য কোনও দল বা জোটকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
প্রবীণ আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী ‘Doctrine of Pleasure’-এর অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা অনেকাংশে নির্ভর করে গভর্নরের আস্থা এবং বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র রাজ্যপালের ইচ্ছায় কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে সরানো যায় না। কিন্তু যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে কিংবা সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে, তাহলে রাজ্যপাল সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন।
আইনজ্ঞদের মতে, যদি কোনও দল পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং বর্তমান সরকার সেই সমর্থন হারায়, তাহলে রাজ্যপাল বৃহত্তম দলের নেতাকে সরকার গঠনের জন্য ডাকতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে বিজেপি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের আবেদন জানাতে পারে। প্রয়োজনে রাজ্যপাল নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে সরকার গঠনের পথও প্রশস্ত করতে পারেন। পরে বিধানসভায় আস্থা ভোটের মাধ্যমে নতুন সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হয়।
বিকাশ সিংয়ের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি জানানোর সাংবিধানিক সুযোগ খুবই সীমিত। কারণ শেষ পর্যন্ত বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয় কে সরকার পরিচালনা করবেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সাংবিধানিক বাস্তবতা আলাদা বিষয়। রাজনৈতিক মঞ্চে কোনও নেতা নিজের অবস্থান তুলে ধরতেই পারেন, কিন্তু সরকার গঠনের প্রশ্নে শেষ কথা বলে সংবিধান এবং বিধানসভায় সংখ্যার অঙ্ক।
বর্তমানে গোটা বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়লেও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপরই। কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে পারছে এবং কে আস্থা ভোটে জিতছে, তার উপরই ঠিক হবে রাজ্যের পরবর্তী সরকার। রাজনৈতিক নাটকীয়তা যতই বাড়ুক না কেন, শেষ পর্যন্ত সংবিধানের নির্ধারিত পথ মেনেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তে থাকে উন্মাদনা। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স বা পর্তুগালের মতো…
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এবার এক বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। সাধারণত রবিবার স্কুল বন্ধ…
ভারতীয় ক্রিকেটের উঠতি তারকা বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে। মাত্র ১৫…
পশ্চিমবঙ্গে স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী,…
জামাইষষ্ঠীর দিনেও স্বস্তির আবহাওয়া মিলছে না বঙ্গবাসীর কপালে। বরং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার জেরে আগামীকাল দক্ষিণবঙ্গ…
ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপের পথে ভারতীয় নৌবাহিনী। অত্যাধুনিক…