গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় যখন নাজেহাল বাংলার মানুষ, ঠিক তখনই বড় সুখবর দিল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ইতিমধ্যেই বর্ষার আগমন ঘটেছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় চার দিন আগে। এর জেরে কেরল থেকে শুরু করে বাংলাতেও আগেভাগে বর্ষা পৌঁছনোর জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মে থেকেই দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় সক্রিয় হয়েছে মৌসুমি বায়ু। সাধারণত ২০ মে-র আশপাশে আন্দামানে বর্ষা পৌঁছয়। কিন্তু এ বছর বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের কারণে মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি অনেকটাই দ্রুত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের উপর অনুকূল আবহাওয়া এবং নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিক সময়ের আগেই শক্তি সঞ্চয় করেছে। এর ফলেই এত দ্রুত বর্ষার অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৬ মে-র মধ্যেই কেরলে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। সাধারণত ১ জুন কেরলে মৌসুমি বায়ুর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটে। অর্থাৎ, এ বছর প্রায় এক সপ্তাহ আগেই বর্ষা ঢোকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, যদি এই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তাহলে তা দেশের কৃষি এবং অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা হতে পারে। কারণ বর্ষার উপরই অনেকাংশে নির্ভর করে ভারতের কৃষি ব্যবস্থা।
সাধারণত দক্ষিণবঙ্গে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে বর্ষা প্রবেশ করে। তবে কেরলে আগেভাগে বর্ষা ঢুকলে তার প্রভাব পূর্ব ভারতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে এ বছর বাংলাতেও বর্ষা কিছুটা আগে পৌঁছতে পারে। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের পূর্বাভাস জারি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও কালবৈশাখীর প্রবণতা বাড়ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি বর্ষা আগমনের পক্ষে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
দেশে ভাল বর্ষা হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষি উৎপাদনের উপর। ধান, ডাল-সহ একাধিক খরিফ ফসলের উৎপাদন অনেকটাই নির্ভর করে মৌসুমি বৃষ্টির উপর। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে জলাধারে জল সঞ্চয় বাড়বে, উন্নত হবে সেচ ব্যবস্থা এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষি উৎপাদন ভাল হলে খাদ্যশস্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির চাপও কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্ষার আগমনের সুখবর মিললেও আপাতত কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে গরম এবং আর্দ্রতার অস্বস্তি সহ্য করতেই হবে। শুক্রবার গভীর রাতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হলেও শনিবার দিনের বেশিরভাগ সময় ছিল গুমোট ও ভ্যাপসা। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তি আরও বেড়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ভ্যাপসা গরম থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলবে না।
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যাটার সূর্যকুমার যাদবকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। একটি…
টানা বৃষ্টিতে অবশেষে স্বস্তি মিলেছে গরমে নাজেহাল বঙ্গবাসীর। গত কয়েকদিনের তীব্র অস্বস্তিকর আবহাওয়ার পর দক্ষিণবঙ্গ…
সোনা ও রুপো কিনতে চাইছেন? তাহলে আপনার জন্য সুখবর। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং…
টলিউড অভিনেতা এবং প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীকে ঘিরে ফের বিতর্ক দানা বাঁধল। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক…
পাহাড়প্রেমী পর্যটকদের জন্য বড় সুখবর। কলকাতা থেকে হিমাচল প্রদেশে যাতায়াত আরও সহজ করতে চালু হল…
ডিজিটাল পেমেন্টের জগতে বড় পদক্ষেপ নিল ফিনটেক সংস্থা BharatPe। এবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না…