উচ্চ মাধ্যমিকে ফেল? চিন্তার কিছু নেই! পড়ুয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল WBCHSE

২০২৪ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) উচ্চ মাধ্যমিকে সেমেস্টার পদ্ধতি চালু করেছে। এ বছরই শেষবারের মতো পুরনো পাঠ্যক্রম অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন পাঠ্যক্রমে বাংলা…

Avatar

২০২৪ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) উচ্চ মাধ্যমিকে সেমেস্টার পদ্ধতি চালু করেছে। এ বছরই শেষবারের মতো পুরনো পাঠ্যক্রম অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন পাঠ্যক্রমে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে বেশ কিছু নতুন গদ্য ও পদ্য সংযোজন করা হয়েছে, যা শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এবার শিক্ষাসংসদ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান নিয়ে এল।

টেস্ট পরীক্ষায় ফেল? নতুন সিদ্ধান্তে স্বস্তি

নতুন সেমেস্টার পদ্ধতি চালু হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল, যারা এই বছর টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি, তাদের কি সেমেস্টার পদ্ধতিতে নতুন করে পড়তে হবে? এই জটিলতার সমাধানেই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ বুধবার একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, যারা পুরনো পদ্ধতিতে একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও উচ্চ মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে, তারা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সেমেস্টার পদ্ধতিতে নথিভুক্ত হতে পারবে। এর জন্য শিক্ষার্থীদের একটি ‘অপশন ফর্ম’ পূরণ করে জমা দিতে হবে। একবার ফর্ম জমা দিলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন সেমেস্টার পদ্ধতির আওতায় চলে আসবে।

অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা

সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীরা সেমেস্টার ৩ ও সেমেস্টার ৪-এর জন্য নথিভুক্ত হতে পারবে। এই সেমেস্টার পরীক্ষা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর এবং ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দ্বাদশ শ্রেণির প্রজেক্ট ও প্র্যাকটিকালের নম্বরও শিক্ষাসংসদের পোর্টালে আপলোড করা হবে।

তবে ‘অপশন ফর্ম’ পূরণের সময় সাবজেক্ট কম্বিনেশন পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। পুরনো বিষয়ের বদলে নতুন বিষয় বেছে নিতে হবে, কারণ পুরনো কম্বিনেশন আর বৈধ থাকবে না।

WBCHSE-র সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন,
_“এটা পুরোপুরি শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত। তারা চাইলে সেমেস্টার পদ্ধতিতে স্থানান্তরিত (মাইগ্রেট) হতে পারবে, আবার না-ও পারে। পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইনে করা যাবে।”_

পরীক্ষার্থীরা ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবে, যা প্রায় এক মাসের সময়সীমা।

পাঠ্যপুস্তক বিতরণে বিলম্ব নিয়ে অসন্তোষ

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমেস্টারের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পাঠ্যপুস্তক স্কুলে পৌঁছায়নি। শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী জানান,
_“আমরা বহু আগেই সংসদ সভাপতিকে জানিয়েছি। সংসদের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও বই এখনও স্কুলে এসে পৌঁছায়নি, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত বই বিতরণের দাবি জানাচ্ছি।”_

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে দ্রুত বই বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকমহল।