পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল কয়েকদিন ধরেই। তবে শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দুকেই পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। ফলে তিনিই হচ্ছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে。
বিধায়কদলের বৈঠকের পর অমিত শাহ বলেন, “পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল এবং সব প্রস্তাবেই একটিই নাম ছিল— শুভেন্দু অধিকারী। দ্বিতীয় কোনও নাম প্রস্তাব করা হয়নি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করা হচ্ছে।”
বিজেপির নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের পর পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রধান পর্যবেক্ষক ছিলেন অমিত শাহ। তাঁর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসাবে ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তাঁদের উপস্থিতিতেই বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়。বৈঠকের পরে শুভেন্দু অধিকারী রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন বলেও জানা গিয়েছে। এরপরই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মুখ্যমন্ত্রীপদের জন্য শুভেন্দু অধিকারীর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই। কারণ, গত কয়েক বছরে তিনি রাজ্যের রাজনীতিতে নিজেকে অন্যতম শক্তিশালী মুখ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন。
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। সেই সময় প্রায় ১৯৫৬ ভোটে জয় পেয়েছিলেন তিনি। এ বারও তিনি নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন। পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও সরাসরি মমতার বিরুদ্ধে লড়ে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জয় পেয়েছেন。
রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে এমন সরাসরি লড়াই খুব কমই দেখা গিয়েছে। আর সেই লড়াইয়ে পরপর দু’বার জয় পাওয়ার পর থেকেই বিজেপির অন্দরমহলে শুভেন্দুকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখার দাবি জোরালো হতে শুরু করে。
বিজেপি অতীতে একাধিক রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চমক দিয়েছে। এমন অনেক নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে, যাঁদের নাম আগে আলোচনাতেই ছিল না। তাই পশ্চিমবঙ্গেও শেষ মুহূর্তে অন্য কোনও নাম সামনে আসতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল。
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এ ক্ষেত্রে খুব বেশি চমকের সুযোগ ছিল না। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর শুভেন্দু অধিকারী কার্যত নিজের দাবিকে অনেকটাই শক্তিশালী করে ফেলেছিলেন। তাঁকে উপেক্ষা করলে দলের অন্দরেই অসন্তোষ তৈরি হতে পারত। তাই শেষ পর্যন্ত কোনও ঝুঁকি না নিয়ে শুভেন্দুর হাতেই নেতৃত্ব তুলে দিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব。
শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক শীর্ষ নেতার উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার বিজেপির সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতেও এই অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তে থাকে উন্মাদনা। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স বা পর্তুগালের মতো…
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এবার এক বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। সাধারণত রবিবার স্কুল বন্ধ…
ভারতীয় ক্রিকেটের উঠতি তারকা বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে। মাত্র ১৫…
পশ্চিমবঙ্গে স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী,…
জামাইষষ্ঠীর দিনেও স্বস্তির আবহাওয়া মিলছে না বঙ্গবাসীর কপালে। বরং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার জেরে আগামীকাল দক্ষিণবঙ্গ…
ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপের পথে ভারতীয় নৌবাহিনী। অত্যাধুনিক…