নির্বাচনের আবহে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। একদিকে জোরদার প্রচার, অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণ—সব মিলিয়ে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই। এই পরিস্থিতিতে নদিয়ার শান্তিপুরে সভা থেকে আত্মবিশ্বাসী সুরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে লাগাতার প্রচার সভা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরুলিয়া থেকে মালদহ—রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সভা করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন তিনি। শান্তিপুরের সভা থেকেও দল নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেন মমতা। জনসাধারণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমি মানুষের চোখমুখ যদি বুঝে থাকি, এ বার আরও বেশি সিট পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রচার মঞ্চে দাঁড়িয়ে বারবার অতীতের কথা তুলে ধরছেন তৃণমূল নেত্রী। ২০১৬ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২৯৪টা কেন্দ্রে আমিই প্রার্থী।” আবার কখনও ভোটারদের উদ্দেশ্যে অভিমানী সুরে বলেন, “ভোট না দিলে কিন্তু আপনাদের সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখব না।” এই আবেগঘন বার্তা ভোটারদের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা মত রয়েছে।
এদিকে নির্বাচনী প্রচারে পিছিয়ে নেই বিরোধীরাও। বিজেপির হয়ে প্রচারে এসে কোচবিহারে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং মালদহের ঘটনার উল্লেখ করেন। এর জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যে প্রথম অপরাধীকে ধরেছিল, সেটা আমাদের সিআইডি। তাকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে সত্য সামনে না আসে।” তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের ওপর নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে রাজ্যের ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়ছে।
প্রথম থেকেই বাংলার নির্বাচনে ‘বহিরাগত’ ইস্যু তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শান্তিপুরের সভা থেকেও তিনি একই অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, অন্য রাজ্য থেকে মানুষ এনে ভোটে প্রভাব ফেলার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক আনা হচ্ছে। বর্ডার খুলে দেওয়া হয়েছে যাতে আমরা ধরতে না পারি।” এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
শুধু ভোট নয়, গণনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পনা করে প্রথমে নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলির ফল প্রকাশ করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হতে পারে। তবে সবশেষে আত্মবিশ্বাসী সুরেই তিনি বলেন, “কিছু ভাববেন না, মানুষ আমাদের সঙ্গেই আছে। আমরা আরও বেশি আসন নিয়ে ফিরব।”
সব মিলিয়ে, বাংলার ভোট ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই এখন তুঙ্গে। একদিকে শাসক দলের আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে বিরোধীদের আক্রমণ—সব মিলিয়ে ফলাফল কী হবে, তা জানতে এখন অপেক্ষা ভোটের দিনের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসবে তৃণমূলই। ভোটের আগে এই আত্মবিশ্বাস কতটা বাস্তবে পরিণত হয়, সেটাই এখন দেখার।
ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তে থাকে উন্মাদনা। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স বা পর্তুগালের মতো…
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এবার এক বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। সাধারণত রবিবার স্কুল বন্ধ…
ভারতীয় ক্রিকেটের উঠতি তারকা বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে। মাত্র ১৫…
পশ্চিমবঙ্গে স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী,…
জামাইষষ্ঠীর দিনেও স্বস্তির আবহাওয়া মিলছে না বঙ্গবাসীর কপালে। বরং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার জেরে আগামীকাল দক্ষিণবঙ্গ…
ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপের পথে ভারতীয় নৌবাহিনী। অত্যাধুনিক…