“জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত থামব না” : আশুতোষ রাঙ্কা

১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে সরব সংগঠন, CEC জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনের ডাক। নির্বাচনী তালিকা সংশোধন ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই আরও সুর চড়াল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সোমবার দাবি করেছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি থেকে তাঁরা পিছিয়ে আসছেন না। তাঁর অভিযোগ, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর সময় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। এই দাবির ভিত্তিতেই আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে CJP।
গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাঙ্কা বলেন, “৪৮ ঘণ্টা কুমারের কোর্টে ছিল, এখন বল CJP-র কোর্টে।” তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে সংগঠন। CJP-র তরফে এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘Election Commission Thik Karo’।
১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার দাবি
CJP-র অভিযোগ, দেশের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR প্রক্রিয়ার সময় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে। এই সংখ্যাকে কেন্দ্র করেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।
তবে এই অভিযোগগুলি CJP-র দাবি বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশন SIR নিয়ে কমিশনের ভিতরে মতবিরোধের অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি কমিশনের সর্বসম্মত অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছিল।
অসমের সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়েও প্রশ্ন
অসমে বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়েও সরব হয়েছেন রাঙ্কা। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় শাসকপক্ষ সুবিধা পেয়েছে। এমনকি একটি গ্রামের মানুষকে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে এই দাবিরও স্বাধীন যাচাই হয়নি।
রাঙ্কার আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্কে বিজেপি নির্বাচন কমিশনের পাশে দাঁড়াচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচন কমিশন যদি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হয়, তা হলে বিজেপির তরফে জ্ঞানেশ কুমারকে কেন সমর্থন করা হচ্ছে?
২ অক্টোবর থেকেই দেশজোড়া কর্মসূচি
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর CJP জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল। দাবি পূরণ না হলে দেশজুড়ে আন্দোলন এবং দিল্লিতে ‘জন্তর মন্তর ২.০’-র হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।
এ বার সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর ২ অক্টোবর থেকে দেশজোড়া আন্দোলনের কথা ঘোষণা করল CJP। ফলে SIR, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।



