রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরেও মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এমন পরিস্থিতিতে সংবিধান কী বলে? রাজ্যপালের হাতে কী কী বাস্তবিক উপায় থাকে? এই অচলাবস্থায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণও ধাক্কা খেতে পারে। ফলে দ্রুত সাংবিধানিক সমাধান খোঁজা এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে।
ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে মুখ্যমন্ত্রীর পদ টিকে থাকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর। যদি কোনও মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান, তাহলে তিনি সাধারণত স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হল ‘ফ্লোর টেস্ট’। রাজ্যপাল বিধানসভায় একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারেন এবং মুখ্যমন্ত্রীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলতে পারেন। যদি মুখ্যমন্ত্রী এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হন, তাহলে সাংবিধানিকভাবে তাঁকে পদত্যাগ করতেই হয়।
রাজ্যপাল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন কি না—এই প্রশ্নটি কিছুটা জটিল। সাধারণভাবে, ফ্লোর টেস্ট ছাড়া সরাসরি বরখাস্ত করা বিরল এবং তা বিচারবিভাগীয় পর্যবেক্ষণের আওতায় আসতে পারে। তাই এই পথটি তাত্ত্বিকভাবে থাকলেও বাস্তবে খুব কম ব্যবহৃত হয়।
যদি বর্তমান সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়, তাহলে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে বিজেপি সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারে।
যদি কোনও দলই সরকার গঠন করতে না পারে বা প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়, তাহলে রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করতে পারেন। সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেন্দ্র সরকার রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিষয়টি আদালতেও গড়াতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট নির্দেশ দিতে পারে দ্রুত ফ্লোর টেস্ট আয়োজনের জন্য। অতীতে একাধিক ক্ষেত্রে আদালত হস্তক্ষেপ করেছে যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় থাকে।
সংবিধান অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়—সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সরকার টিকে থাকে। ফলে শেষ পর্যন্ত বিধানসভাতেই নির্ধারিত হবে কে রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করবে। এখন দেখার, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কীভাবে প্রয়োগ করা হয়। রাজনৈতিক টানাপোড়েন যতই বাড়ুক, শেষ কথা বলবে গণতান্ত্রিক নিয়মই। সংবিধানের সীমার মধ্যেই সমাধান খুঁজতে হবে সব পক্ষকে।
ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তে থাকে উন্মাদনা। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স বা পর্তুগালের মতো…
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এবার এক বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। সাধারণত রবিবার স্কুল বন্ধ…
ভারতীয় ক্রিকেটের উঠতি তারকা বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে। মাত্র ১৫…
পশ্চিমবঙ্গে স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী,…
জামাইষষ্ঠীর দিনেও স্বস্তির আবহাওয়া মিলছে না বঙ্গবাসীর কপালে। বরং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার জেরে আগামীকাল দক্ষিণবঙ্গ…
ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপের পথে ভারতীয় নৌবাহিনী। অত্যাধুনিক…