ভারতের প্রথম হাই-স্পিড রেল প্রকল্প—মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ পর্যন্ত বুলেট ট্রেন—নিয়ে দেশে তৈরি হচ্ছে নতুন এক যোগাযোগ বিপ্লবের অধ্যায়। ইতিমধ্যে এই মেগা প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য নির্মাণ অগ্রগতি দেখা গিয়েছে। গুজরাটে আংশিক চলাচল শুরু হতে পারে ২০২৮ সালের মধ্যেই। পূর্ণ রুটটি সম্পূর্ণভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে।
প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য ৫০৮ কিলোমিটার, যার মধ্যে গুজরাট অংশে ৩৪৮ কিমি এবং মহারাষ্ট্রে ১৫৬ কিমি পড়েছে। আধুনিক নির্মাণ পদ্ধতি ব্যবহার করে ইতিমধ্যে ৩০০ কিমি ভায়াডাক্ট (উচ্চ রেলপথ) নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৭.৪ কিমি তৈরি হয়েছে Full Span Launching Method (FSLM) ব্যবহার করে, যা নির্মাণকে ত্বরান্বিত করেছে। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ৪০ মিটার, এবং মোট ৬,৪৫৫টি স্প্যান বসানো হয়েছে। বুলেট ট্রেন চলার সময় শব্দদূষণ কমানোর জন্য ৩ লক্ষেরও বেশি নয়েজ ব্যারিয়ার লাগানো হয়েছে।
মুম্বইয়ের বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্স (BKC) স্টেশনটি থাকছে সম্পূর্ণ ভূগর্ভস্থ, যার গভীরতা ২৬ মিটার। এখানে ৬টি প্ল্যাটফর্ম থাকছে। স্টেশনটির খনন কাজ ইতিমধ্যেই ৭৬ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। অপরদিকে, আহমেদাবাদের সাবরমতী স্টেশনটি তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব নকশায়, যেখানে সোলার প্যানেল থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০ লক্ষ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
এই প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয় ধরা হয়েছে ₹১.০৮ লক্ষ কোটি টাকা। জাপান সরকারের সহযোগিতায় প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তায় তৈরি হচ্ছে এই হাই-স্পিড করিডর, যা মুম্বই-আহমেদাবাদ রুটে যাত্রার সময়কে তিন ঘণ্টার নিচে নিয়ে আসবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাস্য (FAQ):
১. কবে চালু হতে পারে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন?
গুজরাটে আংশিকভাবে বুলেট ট্রেন চালু হতে পারে ২০২৮ সালে, আর সম্পূর্ণ রুটটি ২০৩০ সালের মধ্যে কার্যকর হবে বলে আশা।
২. মোট কত কিমি দীর্ঘ এই করিডর?
মোট দৈর্ঘ্য ৫০৮ কিমি—এর মধ্যে ৩৪৮ কিমি গুজরাটে ও ১৫৬ কিমি মহারাষ্ট্রে।
৩. পরিবেশ রক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
নয়েজ ব্যারিয়ার ও সোলার প্যানেলের মতো পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।
৪. এই প্রকল্পের মোট খরচ কত?
প্রায় ₹১.০৮ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
৫. বিদেশি সহযোগিতা কে দিচ্ছে?
জাপান সরকার এই প্রকল্পে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে।














