দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টার ক্লান্তিকর সফর শেষ হতে চলেছে। খুব শীঘ্রই দিল্লি থেকে পাটনা পৌঁছানো যাবে মাত্র তিন ঘণ্টায়। হ্যাঁ, শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও এটাই বাস্তব হতে চলেছে, কারণ ইন্ডিয়ান রেলওয়ে নিয়ে আসছে সুপারফাস্ট বুলেট ট্রেন, যার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার।
দিল্লি-হাওড়া হাই-স্পিড করিডরের অন্তর্গত এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে দূরত্ব যেমন কমবে, তেমনি যাত্রীদের সময় ও খরচও বাঁচবে। পাটনা, বক্সার, গয়া ও হাওড়া-সহ একাধিক শহরকে যুক্ত করে গড়ে তোলা হচ্ছে এই আধুনিক রেলপথ।
কী থাকছে এই হাই-স্পিড ট্রেনে?
নতুন এই বুলেট ট্রেন চলবে আপগ্রেডেড ট্র্যাকের উপর দিয়ে, যেখানে সর্বোচ্চ গতি থাকবে ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার। এমন গতিতে দিল্লি থেকে পাটনা পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৩ ঘণ্টা। তুলনায়, বর্তমানে এই পথ অতিক্রম করতে লাগে প্রায় ১৭ ঘণ্টা।
এই প্রকল্পে ব্যবহৃত হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। থাকবে ডিজিটাল সিগনালিং সিস্টেম, ভূমিকম্প সতর্কীকরণ যন্ত্র UrEDAS, এবং উচ্চ মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রেলপথটির কিছু অংশ হবে elevated, কিছু underground, এবং কিছু at-grade অর্থাৎ সমতলে নির্মিত।
অর্থনৈতিক লাভ কতটা?
এই হাই-স্পিড ট্রেন শুধুমাত্র যাত্রীদের সুবিধাই দেবে না, বরং এর মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও বড় সুযোগ তৈরি হবে। আরও সহজ ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ট্র্যাফিক কমবে, যাতায়াতের খরচ ও সময় বাঁচবে, আর সেই সঙ্গে বাড়বে জীবনযাত্রার মান।
জানুন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর:
১. কবে থেকে এই বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালু হবে?
উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে কাজ জোরকদমে চলছে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই তা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২. এই করিডরে মোট কতগুলি শহর যুক্ত থাকবে?
দিল্লি থেকে হাওড়া পর্যন্ত করিডরের মাধ্যমে অন্তত ৫টি বড় শহর যুক্ত থাকবে — যার মধ্যে পাটনা, বক্সার, গয়া, এবং হাওড়া অন্যতম।
৩. ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি কত হবে?
এই বুলেট ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার বেগে চলবে।
৪. নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
উন্নত প্রযুক্তি যেমন UrEDAS ও ডিজিটাল সিগনালিং সিস্টেম ব্যবহার করে ট্রেনের গতিবেগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
৫. এই প্রকল্পে সরকারের লক্ষ্য কী?
প্রধান লক্ষ্য হল দ্রুত যোগাযোগ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ও আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা।














