ভারতের রেল পরিষেবায় আসছে গতি ও প্রযুক্তির যুগলবন্দি। আধুনিক প্রযুক্তি এবং উচ্চগতির ব্যবস্থায় সজ্জিত হয়ে দেশের আটটি ট্রেন এখন সর্বোচ্চ গতির প্রতিযোগিতায় শামিল।
কোন ট্রেন এখন ভারতের দ্রুততম?
সর্বোচ্চ গতি অর্জনকারী ট্রেন হিসাবে উঠে এসেছে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। এই ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ১৮০ কিমি/ঘণ্টা, যদিও গড় গতি প্রায় ৮৩ কিমি/ঘণ্টা। আধুনিক ডিজাইন এবং ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ প্রযুক্তির সম্মিলনে এটি তৈরি হয়েছে।
নামো ভারত (RapidX):
এটি দেশের প্রথম আঞ্চলিক র্যাপিড ট্রানজিট ব্যবস্থা। নামো ভারত ট্রেনের গতি নির্মাণে নির্ধারিত ১৮০ কিমি/ঘণ্টা হলেও, বর্তমানে এটি ১৬০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত চলে। গড় গতি ১০০ কিমি/ঘণ্টা। এনসিআর রিজিয়নে এই পরিষেবা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা।
গতিমান এক্সপ্রেস:
দিল্লি থেকে আগ্রা পর্যন্ত চলা এই ট্রেন ভারতের প্রথম ‘সেমি-হাইস্পিড’ ট্রেন হিসেবে পরিচিত। সর্বোচ্চ গতি ১৬০ কিমি/ঘণ্টা এবং গড় গতি ১৩৫ কিমি/ঘণ্টা। এটির যাত্রাপথ ইতিহাসপ্রেমী এবং পর্যটকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।
তেজস এক্সপ্রেস:
এই ট্রেনটি ১৩০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত গতি তুলতে পারে। এতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যেমন Wi-Fi, ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিন এবং বায়ো-ভ্যাকুয়াম টয়লেট উপলব্ধ।
শতাব্দী এক্সপ্রেস:
সম্পূর্ণ এয়ার-কন্ডিশন্ড এই ট্রেনগুলির গতি পৌঁছায় ১৫০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত। সেবা, গতির সঙ্গে যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। onboard catering এই ট্রেনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
রাজধানী এক্সপ্রেস:
বিভিন্ন রুটে চলা রাজধানীগুলি ১৩৫ থেকে ১৬০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে ছুটে চলে। নির্ভরযোগ্য এবং দ্রুত পরিষেবার কারণে এখনো বহু যাত্রীর প্রথম পছন্দ।
ভোপাল শতাব্দী এক্সপ্রেস:
নয়াদিল্লি থেকে ভোপাল পর্যন্ত চলা ট্রেনটি দেশের অন্যতম দ্রুতগামী ট্রেন। এর সর্বোচ্চ গতি ১৫০ কিমি/ঘণ্টা এবং সম্পূর্ণ যাত্রাপথ অতিক্রম করে মাত্র সাড়ে ৮ ঘণ্টায়।
মুম্বই-দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস:
১৩৮৬ কিমি পথ মাত্র ১৫.৫ ঘণ্টায় পাড়ি দেয় এই রাজধানী ট্রেনটি। গতি ১৪০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত হলেও কিছু আপগ্রেড ট্রেন ১৬০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এই আটটি ট্রেনের মধ্যে প্রতিটির রয়েছে নিজস্ব পরিচয়, গতি এবং প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্য। ভারতীয় রেল ভবিষ্যতের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে — উন্নত যাত্রী পরিষেবা এবং আধুনিক পরিকাঠামোর আশ্বাস নিয়ে।














