কাজ হারিয়ে অন্য রাজ্য থেকে বাংলায় ফিরেছেন হাজার হাজার শ্রমিক। তাঁদের জন্যই রাজ্য সরকার চালু করেছে শ্রমশ্রী প্রকল্প (Shramashree Scheme)। প্রতিমাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার। তবে এই সুবিধা পেতে গেলে কঠোর নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক। রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রকল্প মূলত প্রকৃত পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য। তাই ভুয়ো আবেদনকারীদের রুখতেই বিশেষ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শ্রম দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রত্যেকটি আবেদন যাচাই করবেন। আবেদনকারীর নাম, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম এবং পরিবারের তথ্য না মিললে আবেদন বাতিল করা হবে। এছাড়া অকার্যকর বা বন্ধ অ্যাকাউন্ট থাকলেও অর্থ দেওয়া হবে না।
কী সুবিধা মিলবে
যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে বছরে সর্বোচ্চ ৬০,০০০ টাকা পাবেন। টাকা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। শুধু আর্থিক ভাতা নয়, শ্রমশ্রী প্রকল্পে আরও কিছু সুবিধা থাকছে—
প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা
কর্মসংস্থান খোঁজার সহায়তা
সন্তানদের স্কুলে ভর্তি ও সরকারি স্কলারশিপ
চিকিৎসা ও বীমার সুবিধা
ফলে এটি কেবলমাত্র ভাতা প্রকল্প নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কর্মসূচি।
আবেদন প্রক্রিয়া
এই প্রকল্পে নাম লেখাতে হলে কর্মসাথী পোর্টালে নথিভুক্ত থাকা জরুরি। যদি আগে নাম নথিভুক্ত না থাকে, তবে প্রথমে আইডি নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। এরপর শ্রমশ্রী স্কিমের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর স্ক্রুটিনি ও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
আবেদনকারীর সংখ্যা
প্রকল্প ঘোষণার পর থেকেই আগ্রহ দেখা গেছে বিপুল পরিমাণে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে সর্বাধিক আবেদন জমা পড়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, আবেদনকারীর সংখ্যা ১ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। সরকার এই চাহিদাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং দ্রুত ভেরিফিকেশন শেষ করার চেষ্টা চলছে।
কেন কঠোর নিয়ম?
অতীতে একাধিক প্রকল্পে ভুয়ো আবেদনকারীর মাধ্যমে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই সুযোগ রোধ করতেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এভাবে নিশ্চিত করা যাবে যে শুধুমাত্র প্রকৃত পরিযায়ী শ্রমিকরাই সরকারের সুবিধা পাচ্ছেন।












