বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক অনিশ্চয়তা যেন দুঃস্বপ্ন না হয়—এই লক্ষ্য নিয়েই চালু হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অটল পেনশন যোজনা (APY)। কৃষক, দিনমজুর, গৃহকর্মী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ী—অসংগঠিত ক্ষেত্রের কোটি কোটি কর্মীকে অবসরজীবনে সম্মানজনক ভরণপোষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালের ৯ মে যোজনা চালু করা হয়।
কারা যোগ দিতে পারবেন?
১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক এই প্রকল্পে যোগ দিতে পারবেন। তবে কয়েকটি শর্ত মানতে হবে—
করদাতা হওয়া যাবে না।
একটি সঞ্চয়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক।
অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প যেমন EPF-এর সদস্য হওয়া যাবে না।
একবার অ্যাকাউন্ট খোলার পর, অবদানের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে। ফলে ঘন ঘন অফিসে যাওয়ার ঝামেলা থাকবে না।
কীভাবে কাজ করে এই প্রকল্প?
এই প্রকল্পে অংশগ্রহণকারীরা নিয়মিত অবদান রাখতে পারেন—প্রতি মাসে, তিন মাস অন্তর বা ছয় মাস অন্তর। অবদানের পরিমাণ নির্ভর করে আবেদনকারীর বয়স ও তিনি কত টাকার মাসিক পেনশন চান তার উপর।
অবদান শেষ হলে ৬০ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে ১,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া যায়।
যিনি অবদান রেখেছেন তাঁর মৃত্যু হলে স্ত্রী বা স্বামী সেই পেনশন পেতে থাকবেন।
যদি দুজনেই আর জীবিত না থাকেন, তবে মনোনীত ব্যক্তি অর্থরাশি পেয়ে যাবেন।
সরকারের নিশ্চয়তা
APY-র অন্যতম বড় আকর্ষণ হল সরকারের ন্যূনতম পেনশনের নিশ্চয়তা। বিনিয়োগ থেকে রিটার্ন প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে। আবার রিটার্ন বেশি হলে অতিরিক্ত টাকা গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে যোগ হবে।
কার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা, যেমন—
কৃষিজীবী
দিনমজুর
গৃহকর্মী
রিকশাচালক
ছোট দোকানদার
অবসর বয়সে তাঁদের কোনও নির্দিষ্ট আয়ের উৎস থাকে না। এই প্রকল্প তাঁদের হাতে মাসিক পেনশন তুলে দেয়, যাতে বার্ধক্যে আর্থিক অনিশ্চয়তার বোঝা কিছুটা হলেও লাঘব হয়।
বৃদ্ধাবস্থার সম্মানজনক জীবনযাপন
অটল পেনশন যোজনার উদ্দেশ্য শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং বৃদ্ধদের সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দেওয়া। নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও নিজের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে পারেন।














