চৈত্র মাসের শেষ দিকে এসে সোনার বাজারে কার্যত আগুন লেগেছে। কলকাতায় আজ সোনার দামে এমন উল্লম্ফন দেখা গিয়েছে, যা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেই ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে প্রায় ১৪,৪৫৫ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। অন্যদিকে ২২ ক্যারেট গয়না সোনার দামও প্রতি গ্রামে প্রায় ১৩,২৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এই দামের এত বড় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাম বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ। বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লেই বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। কারণ সোনা সবসময়ই ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, ডলারের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলছে ভারতীয় বাজারে।
শুধু আন্তর্জাতিক কারণই নয়, দেশীয় বাজারেও চাহিদা বৃদ্ধি এই দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। চৈত্র মাস মানেই বিয়ের মরশুমের প্রস্তুতি। ফলে গয়না কেনার চাহিদা বাড়তেই থাকে। কিন্তু এই চড়া দামে অনেক পরিবারই এখন কেনাকাটা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ফলে বাজারে একদিকে চাহিদা থাকলেও, অন্যদিকে ক্রেতাদের দ্বিধাও স্পষ্ট।

কলকাতা সহ রাজ্যের অন্যান্য শহর—দুর্গাপুর, আসানসোল, শিলিগুড়ি—সব জায়গাতেই প্রায় একই দামের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে প্রায় ১,৪৪,৫৫০ টাকা এবং ২২ ক্যারেটের ক্ষেত্রে প্রায় ১,৩২,৫০০ টাকার কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে।
বর্তমানে সোনা শুধু গয়নার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। অনেকেই এখন এটিকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবেও দেখছেন। গোল্ড ETF বা ডিজিটাল গোল্ডের মতো বিকল্পেও ঝোঁক বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু দাম দেখে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বাজারের ট্রেন্ড বুঝে বিনিয়োগ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সব মিলিয়ে, সোনার এই ঊর্ধ্বমুখী দামে মধ্যবিত্তের চিন্তা বাড়লেও, বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি নতুন সুযোগও তৈরি করছে। এখন নজর—এই দাম আরও বাড়বে, নাকি কিছুটা স্বস্তি মিলবে আগামী দিনে।












