পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতির মাঝেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফরে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই সফরেই ভারতের জন্য বড় সুখবর দিল UAE। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও UAE-র প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়ের আল নাইয়ানের মধ্যে শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এলপিজি সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস UAE-র
সবচেয়ে বড় ঘোষণা এসেছে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে। ভারতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং ভবিষ্যতে যাতে এলপিজি সংকট তৈরি না হয়, সেই বিষয়ে ভারতকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে UAE। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এই চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবুধাবিতে বিশেষ সম্মান প্রধানমন্ত্রীর জন্য
শুক্রবার দুপুরে আবুধাবিতে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। UAE-র আকাশে প্রবেশ করতেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বিমানকে এসকর্ট করে নিয়ে যায় F-16 যুদ্ধবিমান। আবুধাবি বিমানবন্দরে নামার পর প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনারও দেওয়া হয়। এরপরই UAE-র প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়ের আল নাইয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন নরেন্দ্র মোদি।
জ্বালানি সংকটে স্বস্তি পেতে পারে ভারত
বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তিগুলি হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল এলপিজি সরবরাহ বৃদ্ধি। UAE স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহ করতে তারা প্রস্তুত। ফলে দেশের রান্নার গ্যাসের বাজারে চাপ কিছুটা হলেও কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার সময়ে এই পদক্ষেপকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছে কেন্দ্র।
পেট্রোলিয়াম মজুদ ও শিপ রিপেয়ার নিয়েও চুক্তি
শুধু এলপিজিই নয়, পেট্রোলিয়াম মজুদ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে UAE পাশে থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গুজরাতের ভাদিনারে শিপ রিপেয়ার ক্লাস্টার তৈরির বিষয়েও চুক্তি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।
সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও বাড়ছে সহযোগিতা
এছাড়াও সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর?
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই নয়, পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে।








