পড়ুয়াদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে স্কুল ব্যাগের অতিরিক্ত ওজন কমাতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দপ্তর। দীর্ঘদিন ধরেই অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের একাংশ অভিযোগ করে আসছিলেন, ছোটদের স্কুল ব্যাগ অস্বাভাবিক ভারী হয়ে উঠছে, যা শিশুদের মেরুদণ্ড, কাঁধ এবং শারীরিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ছাত্রছাত্রীদের বয়স ও শ্রেণিভেদে ব্যাগের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত বই, খাতা বা অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বহন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলিকে ক্লাস রুটিন এমনভাবে তৈরি করতে বলা হয়েছে, যাতে একই দিনে অপ্রয়োজনীয় বই আনতে না হয়। চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ভারী ব্যাগ দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের পিঠে ব্যথা, ঘাড়ে চাপ, কাঁধে ব্যথা এবং মেরুদণ্ডের সমস্যা তৈরি করতে পারে। ছোট বয়সে এই ধরনের শারীরিক চাপ ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক।
নতুন নির্দেশিকায় স্কুল কর্তৃপক্ষকে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল শিক্ষার ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ক্লাসরুমে বই রাখার ব্যবস্থা করতে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন সব বই বহন করার প্রয়োজন কমবে। পাশাপাশি হোমওয়ার্ক ও নোটবুক ব্যবস্থাপনাতেও ভারসাম্য রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিভাবকদের একাংশের দাবি, শুধু নির্দেশিকা জারি করলেই হবে না, বাস্তবে স্কুলগুলিতে তা কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, সেটাও নজরদারিতে রাখতে হবে। অনেক বেসরকারি স্কুলে এখনো অতিরিক্ত বই ও প্রজেক্ট সামগ্রী বহনের চাপ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই নীতি বাস্তবায়ন হলে শিশুদের শারীরিক চাপ কমবে এবং পড়াশোনার পরিবেশ আরও স্বাস্থ্যকর হবে। পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দপ্তরের এই পদক্ষেপকে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, স্কুল ব্যাগের ওজন নিয়ন্ত্রণে নতুন গাইডলাইন ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ—সব পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এখন নজর থাকবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের দিকে।








