Trending NewsAppleNYT GamesCelebrity NewsWordle tipsBig 12 SoccerCelebrity BreakupsKeith UrbanUnited Nations Day

২০ বছর পর ‘একলা চলো’ কংগ্রেস! বাংলার ভোটে ৬০+ আসনে বড়সড় সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত

Updated :  Monday, March 30, 2026 10:11 AM

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক চমক এনে দিয়েছে Indian National Congress। দীর্ঘদিন বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়াই করার পর এবার তারা একাই ২৯৪টির মধ্যে ২৮৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু কৌশলগত নয়, বরং বাংলায় নিজেদের হারানো জমি ফিরে পাওয়ার এক মরিয়া প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ‘একলা চলো’ নীতি রাজ্যের ভোট সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এই তালিকার সবচেয়ে বড় চমক Adhir Ranjan Chowdhury-র বিধানসভায় প্রত্যাবর্তন। বহরমপুরের এই প্রভাবশালী নেতা লোকসভায় দীর্ঘদিন প্রতিনিধিত্ব করার পর এবার সরাসরি বিধানসভায় লড়ছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, মুর্শিদাবাদ ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে কংগ্রেসের সংগঠনকে নতুন করে চাঙ্গা করতেই এই পদক্ষেপ।

মালদা এবং উত্তর দিনাজপুরেও কংগ্রেস শক্ত জমি তৈরির চেষ্টা করছে। মৌসম নূর, আলি ইমরান রামজ (ভিক্টর)-এর মতো নেতাদের প্রার্থী করা হয়েছে, যাঁরা স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী। এই জেলাগুলিতে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক বড় ফ্যাক্টর হওয়ায় কংগ্রেসের এই কৌশল সরাসরি তৃণমূলের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে Asaduddin Owaisi-র দল AIMIM এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির উপস্থিতিতে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনাও বেড়েছে।

এই নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক চার ভাগে ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—তৃণমূল, কংগ্রেস, বাম-আইএসএফ জোট এবং AIMIM। ফলে বহু আসনে ফলাফল অপ্রত্যাশিত হতে পারে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর দিনাজপুর মিলিয়ে প্রায় ৬০-৭০টি আসনে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

শুধু গ্রামাঞ্চল নয়, কলকাতাতেও কংগ্রেস নতুন মুখ নিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছে। তরুণ নেতা রোহন মিত্র বা ভবানীপুরে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার চেষ্টা—সব মিলিয়ে দলটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা আর ‘সহযোগী শক্তি’ নয়, বরং সরাসরি লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত।

ঐতিহাসিকভাবে দেখলে, ২০০৬ সালের পর এই প্রথম কংগ্রেস বাংলায় এককভাবে বড় আকারে নির্বাচনে লড়ছে। এর আগে কখনও তৃণমূল, কখনও বামেদের সঙ্গে জোটে থেকেছে তারা। কিন্তু সেই জোট রাজনীতির ফলে সংগঠন দুর্বল হয়েছে বলেই মত অনেকের। তাই এবার স্বাধীনভাবে লড়াই করে নিজেদের ভিত্তি মজবুত করাই মূল লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে, এই নির্বাচন আর শুধুমাত্র তৃণমূল বনাম বিজেপি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। কংগ্রেসের সক্রিয়তা এটিকে ত্রিমুখী, এমনকি চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত করতে পারে। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করছে ভোটারদের মনোভাব এবং মাটির লড়াইয়ের ওপর। তবে এটুকু স্পষ্ট—২০২৬-এর বাংলা ভোটে কংগ্রেস নতুন করে খেলায় ফিরতে চাইছে, এবং সেই চেষ্টা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণ নাড়িয়ে দিয়েছে।