আইপিএল ২০২৬-এ চেন্নাই সুপার কিংসের শুরুটা একেবারেই প্রত্যাশামতো হয়নি। মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ছাড়া মাঠে নেমে দলটি টানা দুই ম্যাচ হেরে চাপে পড়ে গেছে। তবে শুধু পারফরম্যান্স নয়, মিনি নিলামে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত এখন দলের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চেন্নাই সুপার কিংস মিনি-নিলামে কার্তিক শর্মা এবং প্রশান্ত বীরকে প্রায় ১৪.২০ কোটি টাকা করে কিনেছিল। অর্থাৎ এই দুই অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারের পেছনে মোট প্রায় ২৮ কোটি টাকা খরচ করা হয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের পারফরম্যান্স ভালো হলেও এত বড় মঞ্চে তাদের উপর এত বড় বিনিয়োগ অনেকের কাছেই অবাক করার মতো ছিল। কার্তিক শর্মা এখন পর্যন্ত ১২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩৩৪ রান করেছেন, আর প্রশান্ত বীর ৯ ম্যাচে ১২টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে ১১৮ রান করেছেন। কিন্তু আইপিএলের মতো বড় টুর্নামেন্টে এই অভিজ্ঞতা যথেষ্ট কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল শুরু থেকেই।
মাঠের পারফরম্যান্সও সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। প্রথম ম্যাচে কার্তিক শর্মা ১৫ বলে ১৮ রান করেন, যা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি মাত্র ৩ বলে ১ রান করে আউট হন। অন্যদিকে প্রশান্ত বীর ৭ বলে ৬ রান করেন এবং বোলিংয়ের সুযোগই পাননি। ফলে দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
এই অবস্থায় অনেকেই বলছেন, সিএসকে যেন নিজের পায়েই কুড়াল মেরেছে। এত বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে যাদের দলে নেওয়া হয়েছে, তারা যদি প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারেন, তাহলে তা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবেই। অন্যদিকে কম টাকায় দলে নেওয়া কিছু খেলোয়াড় নিজেদের প্রমাণ করেছেন। আয়ুষ মাত্রে মাত্র ৩০ লক্ষ টাকায় দলে এসে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৪৩ বলে ৭৩ রান করেছেন। একইভাবে ৭৫ লক্ষ টাকায় দলে যোগ দেওয়া সরফরাজ খান মাত্র ১২ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন।
এই তুলনা থেকেই প্রশ্ন উঠছে—সিএসকে কি ভুল জায়গায় বড় বিনিয়োগ করেছে? যেখানে কম টাকায় কেনা খেলোয়াড়রা ভালো পারফর্ম করছেন, সেখানে কোটি কোটি টাকার খেলোয়াড়রা ব্যর্থ হলে দলের উপর চাপ বাড়ে। সব মিলিয়ে, আইপিএল ২০২৬-এ সিএসকের শুরুটা যেমন খারাপ, তেমনই তাদের নিলাম কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এখন দেখার বিষয়, টিম ম্যানেজমেন্ট কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং আগামী ম্যাচগুলোতে তারা কী পরিবর্তন আনে।













