রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ৩১ মার্চের মধ্যেই মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। অর্থ দফতরের সংশোধনী বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এক ধাক্কায় বড় অঙ্কের টাকা হাতে পাবেন বহু কর্মচারী ও পেনশনভোগী।
কী জানানো হয়েছে?
নবান্ন সূত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ এবং ডিআর সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে। এই সুবিধা পাবেন কর্মরত কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং পেনশনভোগী পরিবাররা। মৃত কর্মচারীদের পরিবারও এই সুবিধার আওতায় আসবে। অর্থ প্রদান করা হবে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী ১০০% নিরপেক্ষকরণ হারে।

কবে টাকা মিলবে?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই বা তার আগেই সমস্ত বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতেও শুরু করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথম কিস্তি ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে এবং দ্বিতীয় কিস্তি সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার জন্য রাজ্য সরকার একটি পোর্টালও চালু করেছে, যেখানে কর্মচারীরা নিজেদের বকেয়া হিসাব আপলোড করছেন।
কারা এই সুবিধা পাবেন?
- রাজ্য সরকারি কর্মচারী
- অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী
- পেনশনভোগী
- মৃত কর্মচারীদের পরিবার
- শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী
- পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী
- সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মী
কেন এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ?
দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ নিয়ে আন্দোলন চলছিল। এই সিদ্ধান্তে কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি মিলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচন ঘোষণার আগে এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।
৩১ মার্চের আগেই বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা। এখন সবার নজর—সমস্ত টাকা নির্ধারিত সময়ে অ্যাকাউন্টে পৌঁছয় কি না। এই ঘোষণার ফলে বহু পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে, যা রাজ্যের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি বাজারে খরচ বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, ঘোষণার মতোই দ্রুততার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে কি না রাজ্য সরকার।










