দেশজুড়ে সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রতি বছর নিয়ম অনুযায়ী জানুয়ারি ও জুলাই মাসে ডিএ কার্যকর হলেও ঘোষণা সাধারণত কয়েক মাস পরে করা হয়। কিন্তু এপ্রিল মাস শুরু হয়ে গেলেও এখনও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সাধারণত হোলির সময়ের কাছাকাছি ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়। তবে এবারে সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কোনও আপডেট না আসায় অনেকেই দেরির কারণ জানতে চাইছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। ডিএ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক তথ্য, বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতির সূচক (CPI-IW), সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চায় না।
বিশেষজ্ঞ প্রতীক বৈদ্য জানিয়েছেন, ডিএ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে এগোয়। জানুয়ারির ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সাধারণত মার্চ নাগাদ অনুমোদন পায়, কারণ তখনই প্রয়োজনীয় তথ্য ও অভ্যন্তরীণ অনুমোদন সম্পন্ন হয়। ফলে এপ্রিলের শুরুতে ঘোষণা হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।
এছাড়াও বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার সাধারণত ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নিতে চায় এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দিকেও নজর রাখে। তাই তাড়াহুড়ো করে ঘোষণা না করে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ৫৮% ডিএ পাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এবার ডিএ কমপক্ষে ২% বাড়িয়ে ৬০% করা হতে পারে। আবার কিছু রিপোর্টে বলা হচ্ছে, এই বৃদ্ধি ৩% থেকে ৪% পর্যন্তও হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত এই সবই অনুমান, সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি।
গত কয়েক বছরের প্রবণতা অনুযায়ী, এপ্রিল মাসেই ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য অপেক্ষার সময় খুব বেশি দীর্ঘ নাও হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিষয়টি অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ডিএ ঘোষণা দেরি হলেও তা কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এখন সকলের নজর কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই।












