সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) পাওয়ার আশায় ছিলেন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। কিন্তু সেই আশার মাঝেই তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। প্রক্রিয়া এখনও স্পষ্ট না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনিক দেরির কারণে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠছে। পাশাপাশি বারবার নির্দেশ জারি হলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি তেমন দেখা যাচ্ছে না। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং ক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে।

অর্থ দফতরের নতুন নির্দেশ
শিক্ষকদের DA কীভাবে দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে অর্থ দফতরের তরফে স্কুলশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দফতরের কাছে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) কী হবে, তা দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে। আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর পরিস্থিতি
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শিক্ষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল যে দ্রুত বকেয়া DA মিটবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া এখনও ধীরগতিতে চলছে। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ধর্মঘট ও প্রতিবাদ
এই অনিশ্চয়তার জেরে গত ১৩ মার্চ শিক্ষকদের একাংশ ধর্মঘটে সামিল হন। তাঁদের দাবি ছিল, দ্রুত বকেয়া DA মিটিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে হবে। এই আন্দোলন রাজ্যজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
নবান্নে বৈঠক
১ এপ্রিল নবান্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়, যেখানে অর্থ দফতর সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে দ্রুত SOP তৈরির নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে সম্ভাব্য খরচের হিসেবও জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে সেই কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া
উচ্চশিক্ষা দফতর ইতিমধ্যে রাজ্যের সব সরকার পোষিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই DA প্রদানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে। তবে এই প্রক্রিয়াও এখনও চলমান।
শিক্ষকদের ক্ষোভ
SOP তৈরি না হওয়ায় শিক্ষক সংগঠনগুলির মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানিয়েছেন, নির্দেশ দেওয়ার পরও এত দেরি হওয়া অত্যন্ত আশ্চর্যজনক। এতে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগও উঠছে।
দেরির কারণ
দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের কাজে বহু আধিকারিক ব্যস্ত থাকায় এই প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে। তবে SOP তৈরির কাজ চলছে বলেই দাবি করা হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দিচ্ছে। তবে এই আশ্বাসে কতটা ভরসা রাখা যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষক মহলে অসন্তোষ বাড়ছে। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মহার্ঘ ভাতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জট এখনও কাটেনি। SOP চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত DA পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে এই ইস্যু আরও বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের কারণ হতে পারে।










