বর্তমান সময়ে বাড়তি মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বিদ্যুতের বিল একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যৌথভাবে শুরু করেছে বিদ্যুৎ বিল মাফ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায়, যোগ্য পরিবারগুলো প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ বিনামূল্যে পাবেন, পাশাপাশি পুরনো বকেয়া বিলেও শিথিলতা প্রদান করা হবে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে বিদ্যুৎ বিল থেকে মুক্ত করা। সরকার চায় যেন কোনও পরিবার অন্ধকারে জীবন যাপন করতে না হয়। কৃষকদের জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে, কারণ কৃষি কাজের জন্য বিদ্যুৎ খরচ বেশি। বিনামূল্যে বা কম দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে কৃষকদের আর্থিক বোঝা হ্রাস করা হচ্ছে।
যোগ্যতা এবং সুবিধাভোগী
এই প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র সেই পরিবারের জন্য যারা দারিদ্র্যরেখার নিচে জীবনযাপন করে। BPL কার্ডধারী পরিবারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যেসব ঘরে বিদ্যুৎ খরচ ১০০০ ওয়াটের কম, তারা এই প্রকল্পে অংশ নিতে পারবেন। আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানা অবশ্যই সেই রাজ্যে হতে হবে যেখানে প্রকল্পটি চালু। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও বিহার রাজ্যে প্রকল্প সফলভাবে চলছে।
প্রকল্পের সুবিধা
যোগ্য পরিবার প্রতি মাসে ১০০ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাবেন। রাজ্য অনুযায়ী এই সীমা ভিন্ন হতে পারে। পুরনো বকেয়া বিলের উপর প্রযোজ্য সুদের অনেক সময় পুরোপুরি মাফ করা হয়। কেউ একবারে পরিশোধ করতে না পারলে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগও দেওয়া হয়। এতে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক চাপ হ্রাস পায় এবং মাসিক সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়।
আবেদন প্রক্রিয়া
অনলাইন: রাজ্যগুলোর বিদ্যুৎ সংস্থার ওয়েবসাইটে আবেদন করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, উত্তরপ্রদেশে ইউপি পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেডের ওয়েবসাইটে আবেদন করা যায়। প্রয়োজন হয় ১০-সংখ্যার বিদ্যুৎ বিল অ্যাকাউন্ট নম্বর, পাশাপাশি আধার কার্ড, রেশন কার্ড ও আয় প্রমাণপত্র আপলোড করতে হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি রসিদ দেওয়া হয়।
অফলাইন: গ্রামীণ অঞ্চলের জন্য ফিজিক্যাল ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। বিদ্যুৎ বিভাগ বা কমন সার্ভিস সেন্টার থেকে ফর্ম সংগ্রহ করে, নাম, ঠিকানা, বিদ্যুৎ বিল নম্বর সহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে জমা দিতে হয়। জমার পর রসিদ দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে আবেদন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
প্রকল্পটি দরিদ্র পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সেবা প্রদান করছে। পরিবারের সদস্যরা তাদের সঞ্চয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি কাজে ব্যবহার করতে পারছেন। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সেচের খরচ কমিয়েছে, ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থিক অবস্থা উন্নত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি সমাজের দুর্বল অংশকে শক্তিশালী করবে এবং দেশের অর্থনীতিকেও সহায়তা করবে।














