ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ফের সামনে উঠে এল গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও জলবণ্টন ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। বিশেষ করে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলায় নতুন করে আলোচনার দাবি তুলছে ঢাকা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই চুক্তির ভবিষ্যতের উপরেই নির্ভর করছে আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন পথে এগোবে। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ভারতকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বার্তা ঢাকার
সম্প্রতি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। তাঁর বক্তব্য, “এই চুক্তির উপরেই নির্ভর করছে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে কোন পর্যায়ে পৌঁছবে।”
উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার জল বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চুক্তি কার্যকর রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশকে গঙ্গার জল ব্যবহারের সুযোগ দেয় ভারত। তবে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন করে পুনর্নবীকরণ নিয়ে চাপ বাড়াচ্ছে ঢাকা।
দীর্ঘমেয়াদি জলবণ্টন কাঠামোর দাবি বাংলাদেশের
বাংলাদেশের তরফে দাবি করা হয়েছে, নতুন চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান চুক্তিকেই কার্যকর রাখতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতের জলবণ্টন ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে জলবণ্টন ব্যবস্থা কোনও নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘস্থায়ী কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গঙ্গা জলবণ্টন প্রশ্নটি শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং দুই দেশের কৃষি, অর্থনীতি এবং সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবিকার সঙ্গেও জড়িত। ফলে এই ইস্যুতে সমঝোতা না হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
নতুন চুক্তি নিয়ে এখনও নীরব ভারত
অন্যদিকে, ভারতের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন চুক্তি নিয়ে কোনও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশ চাইছে দ্রুততার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নতুন চুক্তির রূপরেখা তৈরি হোক। কারণ ঢাকার মতে, গঙ্গা জলবণ্টন ইস্যু এখন শুধু নদীর জল ভাগাভাগির প্রশ্ন নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্কের ভবিষ্যতের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।









