উৎসবের মরশুমে যেন রান্নাঘরে অগ্নিপরীক্ষা না হয়—এবার সেই দিকেই নজর দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, দিওয়ালির আগে গ্যাসের দাম স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপে স্বস্তির শ্বাস ফেলেছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলিকে এই ভর্তুকী দেওয়া হবে। শুক্রবার দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। লক্ষ্য একটাই—আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের উত্থান-পতনের প্রভাব যাতে দেশের রান্নার গ্যাস বাজারে না পড়ে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেলের দামে যে হঠাৎ বৃদ্ধি দেখা দিচ্ছে, তা ভারতের বাজারে না পৌঁছতেই এই ভর্তুকী বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে, বিদেশে দাম বাড়লেও দেশীয় বাজারে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত দাম গুনতে হবে না।
এটি প্রথম নয়। ২০২২ সালের অক্টোবরে কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকী দিয়েছিল রান্নার গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে। তবে এবার বরাদ্দ আরও বেশি। সরকারি হিসেব বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করে অয়েল কোম্পানিগুলোর প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। সেই ক্ষতি কিছুটা পূরণ করতেই এই সিদ্ধান্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ উৎসবের আগে বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করবে। তবে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে আরও বড় আর্থিক চাপে পড়তে হতে পারে সরকারকে।














