আজ ৩ এপ্রিল, শুক্রবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসের সকাল থেকেই কলকাতার সোনার বাজারে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চৈত্র সেলের মরশুমে সোনার দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ক্রেতাদের জন্য। আজ ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধ সোনার দাম প্রতি গ্রামে প্রায় ১৪,৮৯৭ টাকার কাছাকাছি নেমে এসেছে, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম। একইভাবে ২২ ক্যারেট গয়নার সোনার দামও কমে প্রতি গ্রামে প্রায় ১৩,৬৫৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এই দাম কমার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এলেও বাজারের সামগ্রিক অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিই এর প্রধান কারণ। মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলছে সোনার দামে। ফলে দাম কমলেও তা এখনও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।
আজকের বাজারদর অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের একাধিক শহরে সোনার দাম প্রায় একই রয়েছে। কলকাতা, দুর্গাপুর, আসানসোল, শিলিগুড়ি, দমদম, ব্যারাকপুর, মালদহ, বহরমপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৮,৯৭০ টাকা, ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩৬,৫৫০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনা ১,১১,৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে সোনা শুধু গয়নার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বড় বিনিয়োগকারীরা সোনাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখছেন এবং গোল্ড ইটিএফের মতো ডিজিটাল মাধ্যমেও বিনিয়োগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পরিবারগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ সোনা সঞ্চিত রয়েছে, যার বাজারমূল্য দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে।
চৈত্র মাসে সাধারণত বিয়ের মরশুম থাকায় সোনার চাহিদা বাড়ে, কিন্তু বর্তমান উচ্চমূল্য অনেক পরিবারকে চিন্তায় ফেলেছে। যদিও দামে সামান্য পতন হয়েছে, তবুও তা এখনও বেশ চড়া। দিল্লি বা মুম্বইয়ের তুলনায় কলকাতার বাজারে কিছু পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে সোনার বাজার এখনো অস্থির অবস্থায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনেও সোনার দামে এই ওঠানামা চলতে পারে। তাই যারা এখন সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের উচিত দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ সোনা এখন শুধু অলঙ্কার নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিনিয়োগও বটে।











