Trending NewsAppleNYT GamesCelebrity NewsWordle tipsBig 12 SoccerCelebrity BreakupsKeith UrbanUnited Nations Day

সোনার দামে নতুন রেকর্ড, কোলকাতায় আজ রেট কত? কেন বাড়ছে সোনার দাম, জানুন

Updated :  Wednesday, April 8, 2026 3:02 AM

সোনা—শুধু একটি ধাতু নয়, বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রতীক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ‘হলুদ ধাতু’ যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কাছে সোনা কেনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে কলকাতার বাজারেও সোনার দাম ক্রমাগত ওঠানামা করছে। আজকের বাজারদর দেখলে অনেকেরই মাথা ঘুরে যেতে পারে।

আজ কলকাতায় সোনার দাম কত?

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় আজ ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে প্রায় ১৪,৯৮৩ টাকা। অর্থাৎ ১০ গ্রাম সোনার জন্য খরচ করতে হবে প্রায় ১,৪৯,৮৩০ টাকা।

অন্যদিকে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ১৩,৭৩৪ টাকা, ফলে ১০ গ্রাম গয়নার সোনা কিনতে খরচ হবে প্রায় ১,৩৭,৩৪০ টাকা।

১৮ ক্যারেট সোনার দামও কম নয়—প্রতি গ্রাম প্রায় ১১,২৩৭ টাকা। এই সোনা সাধারণত হিরে বা পাথর বসানো গয়নায় ব্যবহৃত হয়।

দুর্গাপুর, আসানসোল, শিলিগুড়ি বা মালদহ—রাজ্যের প্রায় সব শহরেই একই রকম দাম বজায় রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, এই দামের সঙ্গে জিএসটি ও মেকিং চার্জ যুক্ত হলে খরচ আরও বাড়বে।

কেন এত বাড়ছে সোনার দাম?

সোনার দাম বাড়ার পিছনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। এই ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন।

দ্বিতীয়ত, মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মূল্য ওঠানামা করছে। যেহেতু ভারত সোনা আমদানি করে, তাই ডলারের দাম বাড়লে সোনার আমদানি খরচও বাড়ে।

তৃতীয়ত, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিপুল পরিমাণে সোনা মজুত করছে। এর ফলে বাজারে চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে এবং দামও বাড়ছে।

ভারতে এর প্রভাব

ভারতের মতো দেশে সোনার সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক অনেক গভীর। বিয়ে, উৎসব, পুজো—সব ক্ষেত্রেই সোনা অপরিহার্য। ফলে দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর।

বর্তমানে সোনার উচ্চমূল্যের কারণে গয়নার দোকানে ক্রেতার ভিড় কিছুটা কমেছে। অনেকেই এখন পুরো গয়না না কিনে হালকা ডিজাইনের দিকে ঝুঁকছেন।

এছাড়া বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে অনেকেই সরাসরি সোনা কিনতেন, এখন অনেকে গোল্ড ETF বা ডিজিটাল গোল্ডের দিকে ঝুঁকছেন।

গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে। কৃষিজীবী পরিবারগুলোর কাছে সোনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয়ের মাধ্যম। দাম বেশি হওয়ায় তারা এখন আগের মতো সহজে সোনা কিনতে পারছেন না।

সাধারণ মানুষের জন্য এর মানে কী?

সোনার এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করছে। আগে যেখানে বছরে একবার হলেও গয়না কেনা যেত, এখন অনেকেই তা পিছিয়ে দিচ্ছেন।

বিয়ের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। পরিবারগুলো এখন বাজেট কমিয়ে গয়নার পরিমাণ কমাচ্ছে বা বিকল্প খুঁজছে।

তবে বিনিয়োগের দিক থেকে সোনা এখনও নিরাপদ। যারা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য সোনা এখনও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা না লাগিয়ে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

এছাড়া সোনা কেনার সময় হলমার্ক যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। বাজারে ভেজাল বা কম ক্যারেটের সোনার ঝুঁকি এড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকবে, ততদিন সোনার দাম উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে। তবে মাঝেমধ্যে দামের ওঠানামা হবেই।

সুতরাং, যারা সোনা কিনতে চান তাদের উচিত নিয়মিত বাজারদর নজরে রাখা এবং সঠিক সময় নির্বাচন করা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সোনার দাম এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে এটি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় হলেও সাধারণ মানুষের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তাই পরিকল্পনা করে, প্রয়োজন বুঝে এবং বাজার বুঝে সোনা কেনাই সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।

Expert Opinion

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সোনার দামের উর্ধ্বগতির পেছনে ‘সেফ হেভেন ডিমান্ড’ই প্রধান চালিকা শক্তি। বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা—বিশেষ করে জ্বালানি দামের অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং সুদের হারের সম্ভাব্য পরিবর্তন—বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ (যেমন ইকুইটি) থেকে সরে এসে সোনায় আশ্রয় নিতে বাধ্য করছে।

একজন শীর্ষস্থানীয় অ্যানালিস্টের মতে, “ভারতে সোনার দাম নির্ধারণে দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে—আন্তর্জাতিক স্পট প্রাইস এবং রুপির মান। যদি ডলার শক্তিশালী থাকে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম উঁচু থাকে, তাহলে স্থানীয় বাজারে দ্রুত দাম কমার সম্ভাবনা কম।”

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, খুব স্বল্পমেয়াদে অতিরিক্ত দামে কিনলে ‘প্রাইস কারেকশন’-এর ঝুঁকি থাকে। তাই বড় অঙ্কের এককালীন কেনার বদলে ধাপে ধাপে (SIP-এর মতো) বিনিয়োগ করা, অথবা গোল্ড ETF/সোভেরেন গোল্ড বন্ডের মতো বিকল্প ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।

Future Update / What to Expect Next

আগামী কয়েক সপ্তাহে সোনার বাজার কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর:

  • মার্কিন ফেডের সুদের হার সিদ্ধান্ত: সুদের হার কমার ইঙ্গিত মিললে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে।
  • ডলারের গতিপথ: ডলার দুর্বল হলে সোনা তুলনামূলকভাবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, ফলে দাম বাড়তে পারে।
  • ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি: মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে সোনার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।
  • বিয়ের মরসুমের চাহিদা: ভারতীয় বাজারে মৌসুমি চাহিদা দামকে সাময়িকভাবে উঁচুতে ধরে রাখতে পারে।

ক্রেতাদের জন্য করণীয়:

  • দাম বেশি থাকলেও প্রয়োজনে ছোট পরিমাণে কেনা এবং ‘ডিপ’-এ (দাম কমার সময়) ধীরে ধীরে কেনা ভাল কৌশল।
  • হলমার্ক ও বিল নিশ্চিত করা জরুরি।
  • বিনিয়োগের জন্য 24K বা ডিজিটাল অপশন, আর ব্যবহারিক গয়নার জন্য 22K বেছে নিন।

সব মিলিয়ে, স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা থাকলেও মাঝারি থেকে দীর্ঘমেয়াদে সোনা শক্ত অবস্থানে থাকতে পারে। তাই আবেগ নয়, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।