ডিজিটাল পেমেন্টের দুনিয়ায় বড় আপডেট আনল Google Pay। নতুন ‘Pocket Money’ ফিচারের মাধ্যমে এখন আর নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও করা যাবে অনলাইন পেমেন্ট। এই পরিষেবা চালু হয়েছে UPI Circle-এর অধীনে। ফলে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ ও সবার নাগালে পৌঁছতে চলেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও নন-ব্যাঙ্কড ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
কীভাবে কাজ করবে?
এই ফিচারের মাধ্যমে একজন মূল অ্যাকাউন্ট হোল্ডার তাঁর পরিবারের সদস্য বা বন্ধুকে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেন করার অনুমতি দিতে পারবেন। অর্থাৎ, যাঁদের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই, তাঁরাও সহজেই ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন। Google Pay অ্যাপে ‘People’ অপশনের নিচেই পাওয়া যাবে ‘Pocket Money’ ফিচার। এখানে অনুমতি পেলে সেকেন্ডারি ইউজার অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন।
নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ
এই ফিচারে রয়েছে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
- প্রতিটি পেমেন্টের আগে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের কাছে নোটিফিকেশন যাবে
- প্রয়োজনে পেমেন্ট বাতিল করার সুযোগ থাকবে
- মাসিক খরচের সীমা নির্ধারণ করা যাবে
একজন সেকেন্ডারি ইউজার মাসে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবেন। এর বেশি খরচ করতে গেলে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের অনুমতি লাগবে।
কী কী লাগবে?
এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে—
- দুজনের ফোনেই Google Pay থাকতে হবে
- অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের কন্টাক্ট লিস্টে সেকেন্ডারি ইউজারের নম্বর থাকতে হবে
- সেকেন্ডারি ইউজারের UPI ID বা UPI Circle কোড থাকতে হবে
- KYC ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক
কীভাবে সেট করবেন?
- Google Pay প্রোফাইলে যান
- ‘UPI Circle’ অপশনে ক্লিক করুন
- ‘Pocket Money’ নির্বাচন করুন
- যাকে অ্যাড করবেন তার নাম/নম্বর নির্বাচন করুন
- UPI Circle কোড স্ক্যান করুন
- মাসিক লিমিট সেট করুন
- সম্পর্ক ও অন্যান্য তথ্য দিন
- UPI PIN দিয়ে ইনভাইট পাঠান
দ্বিতীয় পক্ষ অনুরোধ গ্রহণ করলেই ফিচারটি সক্রিয় হয়ে যাবে।
কার জন্য সবচেয়ে উপকারী?
- বাড়ির অপ্রাপ্তবয়স্ক সদস্য
- যাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই
- পারিবারিক খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে চান এমন ব্যবহারকারী
Google Pay-র এই নতুন ‘Pocket Money’ ফিচার ডিজিটাল পেমেন্টকে আরও সহজ ও সবার জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য করে তুলবে। বিশেষ করে যাঁদের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই, তাঁদের জন্য এটি বড় সুবিধা হতে চলেছে। এর ফলে পারিবারিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাও আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হবে। অভিভাবকরা সহজেই সন্তানের খরচ নজরে রাখতে পারবেন। ভবিষ্যতে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় এই ফিচার বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।













