আজকের সময়ে আধার কার্ড শুধু পরিচয়পত্র নয়, এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর একটি। সিম কার্ড কেনা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, স্কুল-কলেজে ভর্তি, এমনকি সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে আধার কার্ড অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ভারতের অনন্য পরিচয় কর্তৃপক্ষ (UIDAI) ১২ সংখ্যার আধার কার্ড ইস্যু করে, যেখানে নাগরিকদের নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। UIDAI নবজাতক শিশুর জন্যও আধার কার্ড তৈরি করে। তবে ৫ বছর এবং ১৫ বছর বয়সে এই কার্ড আপডেট করা বাধ্যতামূলক, না হলে পরবর্তীতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হতে পারে।
কেন শিশুদের আধার কার্ড আপডেট করা প্রয়োজন?
UIDAI-এর নিয়ম অনুযায়ী, শিশুদের আধার কার্ডে **দুইবার বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক আপডেট (MBU) করতে হয়—
প্রথমবার ৫ বছর বয়সে
দ্বিতীয়বার ১৫ বছর বয়সে
এই আপডেটের মাধ্যমে শিশুর আঙুলের ছাপ, আইরিস স্ক্যান এবং নতুন ছবি সংযোজন করা হয়। আধার কার্ডের বৈধতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে কোনও সমস্যা এড়াতে এটি জরুরি।
৫ বছর বয়সে আপডেটের কারণ
৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের আধার কার্ড মূলত বাবা-মায়ের নথির ভিত্তিতে তৈরি হয় এবং এতে বায়োমেট্রিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে না। এটি “বাল আধার” নামে পরিচিত। শিশুর বয়স ৫ বছর পূর্ণ হলে তার আঙুলের ছাপ ও আইরিস স্ক্যান নেওয়া হয়, যাতে তার পরিচয় আরও নির্ভুলভাবে নিশ্চিত করা যায়।
১৫ বছর বয়সে পুনরায় আপডেটের প্রয়োজন কেন?
বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শারীরিক পরিবর্তন ঘটে, যা বায়োমেট্রিক্সের উপর প্রভাব ফেলে। তাই ১৫ বছর বয়সে আবার আঙুলের ছাপ, আইরিস স্ক্যান ও ছবি আপডেট করা হয়। এর ফলে শিশুর বাল আধার পূর্ণাঙ্গ আধার কার্ডে রূপান্তরিত হয়।
আধার আপডেট কোথায় করবেন?
UIDAI ওয়েবসাইটে (https://uidai.gov.in/) গিয়ে “নথিভুক্তি কেন্দ্র সনাক্ত করুন” অপশনে ক্লিক করুন।
রাজ্য, জেলা ও পিন কোড লিখে নিকটতম আধার কেন্দ্র খুঁজে নিন।
আধার আপডেটের জন্য নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করুন।
আধার আপডেটের পদ্ধতি
শিশুর পুরনো আধার কার্ড, বাবা-মায়ের আধার কার্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে নিকটতম আধার কেন্দ্রে যান।
সেখানে শিশুর নতুন ছবি, আঙুলের ছাপ ও আইরিস স্ক্যান নেওয়া হবে।
একটি ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে।
যাচাই শেষে আবেদন জমা দিলে আপনাকে একটি রসিদ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে আপনি অনলাইনে আপডেট স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।
আধার আপডেট না করলে কী সমস্যা হতে পারে?
আধার কার্ড অকার্যকর হয়ে যেতে পারে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে সমস্যা হতে পারে।
স্কুল-কলেজে ভর্তি, ব্যাংকিং পরিষেবা, সরকারি প্রকল্পে আবেদন ইত্যাদিতে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বায়োমেট্রিক তথ্য না থাকার কারণে পরিচয় যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে।
তাই, সময়মতো ৫ ও ১৫ বছর বয়সে শিশুর আধার কার্ড আপডেট করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ!