ভারতীয় রেল যাত্রীদের স্বচ্ছ সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে আবারও টিকিট বুকিং প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনল। আগামী ১ অক্টোবর থেকে, সাধারণ রিজার্ভেশন খোলার প্রথম ১৫ মিনিটে কেবলমাত্র আধার-যাচাইকৃত যাত্রীরাই অনলাইনে টিকিট বুক করতে পারবেন। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের জন্য টিকিট পাওয়া আরও সহজ হবে বলে রেলের দাবি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আইআরসিটিসি ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বুক করার সময় আধার ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এতদিন এই বিধি শুধুমাত্র তৎকাল টিকিট বুকিং-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। এবার তা সমস্ত সাধারণ রিজার্ভেশন টিকিটের ক্ষেত্রেও কার্যকর করা হচ্ছে।
রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ মূলত কালোবাজারি ও ভুয়ো বুকিং বন্ধের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। কারণ সাধারণত টিকিট খোলার প্রথম মুহূর্তেই ভুয়ো আইডি ব্যবহার করে অনেক বুকিং হয়ে যেত। এর ফলে প্রকৃত যাত্রীদের টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াত। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশাবাদী রেল। রেল কর্মকর্তাদের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে যাত্রীদের টিকিট বুকিং অভিজ্ঞতা আরও স্বচ্ছ হবে। বর্তমানে দেশে বিপুল সংখ্যক যাত্রী প্রতিদিন অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বুক করেন। অনলাইন সিস্টেম সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হলেও প্রযুক্তিগত কিছু ফাঁকফোকর থেকে যেত, যেগুলিকে এবার বন্ধ করার চেষ্টা চলছে।
তবে যাত্রীদের অসুবিধা এড়াতে রেলওয়ে জানিয়েছে, সাধারণ রিজার্ভেশন খোলার ১৫ মিনিট পর থেকে ট্র্যাভেল এজেন্টরাও আগের মতো অনলাইনে টিকিট বুক করতে পারবেন। পাশাপাশি, স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। যাত্রীরা কাউন্টার থেকে টিকিট আগের মতোই কিনতে পারবেন। এই নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। রেলের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও আপডেট করার কাজ চলছে। সমস্ত স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে স্বল্প মেয়াদে কিছু যাত্রী অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন। বিশেষত যারা এখনও তাদের আইআরসিটিসি প্রোফাইলের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করেননি, তাদের দ্রুত এই কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় টিকিট বুকিংয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য রেলওয়ে যাত্রীদের প্রতি আবেদন করেছে যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আধার যাচাইকরণ সম্পন্ন করে নেন। ছত্তিশগড়ের রায়পুর, বিলাসপুর কিংবা রায়গড়ের মতো শহর থেকে প্রতিদিন প্রচুর যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করেন। এই নতুন নিয়ম তাদের জন্য একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে কিছুটা চ্যালেঞ্জও বয়ে আনবে। তবে রেল মন্ত্রণালয়ের দাবি, যাত্রীদের স্বার্থেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হবে।











