ভারতের প্রথম উচ্চ-গতির বুলেট ট্রেন প্রকল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডোরের জন্য ৩০০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এই উন্নয়নটি দেশের রেল পরিবহন ব্যবস্থায় একটি নতুন যুগের সূচনা করছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি ও প্রযুক্তি
জাতীয় উচ্চ-গতির রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (NHSRCL) জানিয়েছে, ৩০০ কিমি ভায়াডাক্টের মধ্যে ২৫৭.৪ কিমি নির্মাণ করা হয়েছে ফুল-স্প্যান লঞ্চিং মেথড (FSLM) ব্যবহার করে, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ১০ গুণ দ্রুত। এছাড়া, ১৪টি নদীর উপর সেতু, ৩৭.৮ কিমি স্প্যান-বাই-স্প্যান (SBS), ০.৯ কিমি স্টিল ব্রিজ, ১.২ কিমি প্রি-স্ট্রেসড কনক্রিট (PSC) ব্রিজ এবং ২.৭ কিমি স্টেশন বিল্ডিং অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৫০৮ কিমি, যার মধ্যে ৩৮৩ কিমি পিয়ার, ৪০১ কিমি ফাউন্ডেশন এবং ৩২৬ কিমি গার্ডার কাস্টিং সম্পন্ন হয়েছে।
মুম্বাইয়ের আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন
মুম্বাইয়ের বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্সে অবস্থিত একমাত্র আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের খনন কাজের প্রায় ৭৬% সম্পন্ন হয়েছে। এই স্টেশনটি প্রায় ২৬ মিটার গভীর, এবং এতে তিনটি স্তর থাকবে: প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স এবং সার্ভিস ফ্লোর। স্টেশনটিতে ছয়টি প্ল্যাটফর্ম থাকবে, প্রতিটি প্রায় ৪১৫ মিটার দীর্ঘ।
করিডোরের রুট ও স্টেশন
মুম্বাই-আহমেদাবাদ করিডোরে মোট ১২টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে ৯টি গুজরাটে এবং ৩টি মহারাষ্ট্রে। মুম্বাইয়ের স্টেশনটি আন্ডারগ্রাউন্ড, এবং থানে, বিরার, বোইসর, ভাপি, বিলিমোরা, সুরাট, ভরুচ, ভাদোদরা, আনন্দ, আহমেদাবাদ এবং সাবরমতিতে এলিভেটেড স্টেশন থাকবে।
বুলেট ট্রেনের ভাড়া
বুলেট ট্রেনের এই আপডেটের পর, আপনার মনে নিশ্চয়ই এই প্রশ্নটি আসছে যে এতে ভ্রমণের ভাড়া কত হবে? সম্প্রতি, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ভাড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেছিলেন যে যেখানেই বুলেট ট্রেন চলে, তার ভাড়া বিমান ভাড়ার তুলনায় অনেক সস্তা। অর্থাৎ বিমান ভাড়ার তুলনায় এটি অনেক সস্তা হবে।
প্রকল্পের সময়সীমা
প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে মুম্বাই ও আহমেদাবাদের মধ্যে যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য কত?
উত্তর: প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য ৫০৮ কিলোমিটার।
প্রশ্ন ২: ভায়াডাক্ট নির্মাণে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তর: ফুল-স্প্যান লঞ্চিং মেথড (FSLM) ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ১০ গুণ দ্রুত।
প্রশ্ন ৩: মুম্বাইয়ের স্টেশনটি কোথায় অবস্থিত এবং এর বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: স্টেশনটি বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্সে অবস্থিত, এটি আন্ডারগ্রাউন্ড এবং প্রায় ২৬ মিটার গভীর।
প্রশ্ন ৪: প্রকল্পটি কবে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?
উত্তর: প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রশ্ন ৫: এই প্রকল্পের মাধ্যমে কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
উত্তর: মুম্বাই ও আহমেদাবাদের মধ্যে যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।














