টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক সম্প্রতি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিনি খবরের শিরোনামে। এই নতুন ভূমিকায় আসার পর স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং সম্পত্তি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সোনা ও বিলাসবহুল সংগ্রহ
হলফনামা অনুযায়ী, কোয়েলের কাছে রয়েছে প্রায় ১১২৬.৭৩ গ্রাম সোনা। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী যার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার বেশি। শুধু সোনাই নয়, তাঁর সংগ্রহে রয়েছে একটি দামি Rolex ঘড়ি, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। এই তথ্য থেকেই বোঝা যায় তাঁর লাইফস্টাইল কতটা বিলাসবহুল।
শেয়ার ও বিনিয়োগে বড় অঙ্ক
কোয়েল মল্লিক শুধুমাত্র অভিনয়েই সীমাবদ্ধ নন, আর্থিক বিনিয়োগেও তিনি যথেষ্ট সক্রিয়। বিভিন্ন শেয়ার বাজার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর বড়সড় বিনিয়োগ রয়েছে।
জানা গিয়েছে, কোটাক সিকিউরিটিজে তাঁর শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা। এছাড়া আনন্দ রাঠিতে রয়েছে প্রায় ১ কোটির বেশি বিনিয়োগ। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ডে তাঁর প্রায় ৭৪ লক্ষ টাকার সম্পদ রয়েছে।
মোট অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ হিসাব করলে কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক এবং ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক মিলিয়ে তাঁর কাছে রয়েছে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার বেশি।
সব মিলিয়ে কোয়েল মল্লিকের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার বেশি। তবে আশ্চর্যের বিষয়, তাঁর নিজের নামে কোনও গাড়ি বা স্থাবর সম্পত্তি নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
স্বামী নিসপাল সিং রানের সম্পত্তি
কোয়েলের স্বামী এবং প্রযোজক নিসপাল সিং রানের সম্পত্তির পরিমাণও কম নয়। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২৩ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকার বেশি।
সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে রয়েছে ‘সুরিন্দর ফিল্মস’-এর শেয়ার, যার মূল্য প্রায় ১৮ কোটির বেশি। এছাড়া তাঁর কাছেও প্রায় ৮২১ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার মূল্য ১ কোটিরও বেশি।
স্থাবর সম্পত্তি ও অন্যান্য তথ্য
নিসপালের নামে বরানগরে একটি বাড়ি ও জমি রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯৮ লক্ষ টাকা। যদিও কোয়েল বর্তমানে বালিগঞ্জে বসবাস করেন, সেই ফ্ল্যাটের মালিকানায় তাঁর নাম নেই।
সব মিলিয়ে, কোয়েল মল্লিক শুধু সফল অভিনেত্রীই নন, তিনি আর্থিক দিক থেকেও যথেষ্ট শক্তিশালী। সোনা, শেয়ার এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ মিলিয়ে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
রাজনীতিতে নতুন ভূমিকা নেওয়ার পর তাঁর এই সম্পত্তির খতিয়ান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে তিনি কীভাবে এই দুই দিক—অভিনয় এবং রাজনীতি—সমানভাবে সামলান, সেটাই এখন দেখার।














