কলকাতার সোনার বাজারে আজ এক অদ্ভুত ওঠানামার ছবি সামনে এসেছে, যা সাধারণ ক্রেতা থেকে বিনিয়োগকারী—সবাইকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, ডলারের ওঠানামা এবং দেশীয় চাহিদার প্রভাব মিলিয়ে সোনার দামে প্রায় প্রতিদিনই বদল ঘটছে। ফলে গয়না কিনবেন নাকি বিনিয়োগ করবেন—এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজকের বাজারদর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে দাঁড়িয়েছে ১৩,৭০৬ টাকা। সেই হিসেবে ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,৩৭,০৬০ টাকা। বিয়ের মরসুমে যাঁরা গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এই দাম যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনার দাম আরও বেশি—প্রতি গ্রামে ১৪,৯৫২ টাকা, অর্থাৎ ১০ গ্রামে ১,৪৯,৫২০ টাকা। বিনিয়োগকারীদের কাছে এই খাঁটি সোনাই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, কারণ এতে কোনো খাদ থাকে না এবং দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্নের সম্ভাবনা থাকে।
একই সঙ্গে ১৮ ক্যারেট সোনার চাহিদাও ধীরে ধীরে বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। আজ ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,১২,১৪০ টাকা, যা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ায় পার্টি বা ডেইলি ইউজের গয়নার জন্য বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
শুধু কলকাতাই নয়, দুর্গাপুর, আসানসোল, শিলিগুড়ি, মালদহ বা বহরমপুর—প্রায় সব শহরেই একই দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, এই দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩% GST এবং মেকিং চার্জ যোগ হয়, যা চূড়ান্ত খরচ কিছুটা বাড়িয়ে দেয়।
সোনার দামের এই ওঠানামার পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, সুদের হারের পরিবর্তন, মুদ্রাস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সরাসরি সোনার বাজারকে প্রভাবিত করে। যখন শেয়ার বাজারে ঝুঁকি বাড়ে, তখন বিনিয়োগকারীরা সোনাকে ‘সেফ হেভেন’ হিসেবে বেছে নেন—ফলেই বাড়ে চাহিদা, আর সঙ্গে সঙ্গে দামও।
তবে এখন প্রশ্ন—এই সময় সোনা কেনা ঠিক হবে, না অপেক্ষা করা উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প সময়ের ওঠানামা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনার দাম হঠাৎ বড় করে কমার সম্ভাবনা কম, বরং ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, বাজারে এখন ‘গোল্ড রাশ’ না ‘গোল্ড ট্র্যাপ’—তা নির্ভর করছে আপনার সিদ্ধান্তের ওপর। তাই তাড়াহুড়ো না করে, বাজার বুঝে এবং সঠিক সময় বেছে নিয়ে বিনিয়োগ বা কেনাকাটা করাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পথ।









