অসহায় ও দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। এবার সরকারের উদ্যোগে চালু হল শ্রমিক কার্ড (Labour Card) প্রকল্প, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৮,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে যোগ্য শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
শ্রমিক কার্ড প্রকল্প: উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট
ভারতের বিপুল সংখ্যক দৈনিক মজুর ও নির্মাণ শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। আয় অনিয়মিত হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজন মেটানো অনেকসময় কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছে শ্রমিক কার্ড প্রকল্প। এর লক্ষ্য হলো শ্রমিক পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা।
প্রকল্পের সুবিধা
শ্রমিক কার্ডধারীরা বিভিন্ন ধরনের সাহায্য পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—
সর্বোচ্চ ১৮,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান।
সন্তানদের শিক্ষা ও বিয়ের খরচে সহায়তা।
স্বাস্থ্যজনিত খরচ মেটাতে আর্থিক সাহায্য।
ঘর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা।
এই সুবিধাগুলি সরাসরি ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। ফলে ভুয়োতা বা দালালের সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে।
যোগ্যতা
প্রকল্পের আওতায় আসতে হলে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে—
আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে।
বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
কেবলমাত্র দৈনিক মজুর ও নির্মাণ শ্রমিকরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
আবেদনকারীর বৈধ শ্রমিক কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক।
অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবার এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য।
প্রয়োজনীয় নথি
আবেদনকারীর পরিচয় ও আর্থিক অবস্থার প্রমাণের জন্য কিছু নথি জমা দিতে হবে—
সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ফটো
স্বাক্ষর (Signature)
বৈধ শ্রমিক কার্ড
বাসস্থান সনদপত্র
আয় সনদপত্র
ব্যাংক পাসবুকের কপি
কার্যকর মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি
আবেদন প্রক্রিয়া
পুরো প্রক্রিয়াটি করা হয়েছে অনলাইন পদ্ধতিতে, যাতে শ্রমিকরা সহজে আবেদন করতে পারেন। শ্রম দফতরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নতুন নিবন্ধন (New Registration) করতে হবে।
আবেদনের সময় প্রয়োজন হবে—
আধার কার্ড
ব্যাংক পাসবুক
শ্রমিক কার্ড
পাসপোর্ট সাইজ ফটো
নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য যাচাই করা হবে। একবার অনুমোদন পেলে, প্রতি মাসে নির্দিষ্ট টাকা সরাসরি তাঁর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হবে।
শ্রমিক কার্ড প্রকল্প শুধুমাত্র অর্থ সাহায্য নয়, বরং একটি সুরক্ষার ছাতা। এর মাধ্যমে দরিদ্র শ্রমিকরা তাঁদের পরিবারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসনের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারবেন। সরকারের এই উদ্যোগ শ্রমিকদের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করে তাঁদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।














