এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে প্রতারণা ও কালোবাজারি ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ নিল গ্যাস সংস্থাগুলি। এখন থেকে গ্যাস ডেলিভারি পেতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে একটি বিশেষ কোড। এই নতুন ব্যবস্থার নাম ‘ডেলিভারি অথেনটিকেশন কোড’—যা না দিলে ডেলিভারি সম্পূর্ণ হবে না।
কী এই নতুন নিয়ম?
গ্যাস বুকিং করার পর গ্রাহকের রেজিস্টার্ড মোবাইলে একটি ইউনিক কোড পাঠানো হবে। ডেলিভারি এজেন্ট সিলিন্ডার নিয়ে পৌঁছালে সেই কোড শেয়ার করলেই ডেলিভারি সম্পন্ন হবে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৯২% ডেলিভারি এই পদ্ধতিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কীভাবে পাবেন কোড?
প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ—
- প্রথমে IVRS/অ্যাপ/ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সিলিন্ডার বুক করতে হবে
- বুকিং কনফার্ম হলে SMS/WhatsApp/ইমেলে কোড আসবে
- ডেলিভারির সময় এজেন্টকে সেই কোড জানাতে হবে
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই কোড অন্য কাউকে শেয়ার করা যাবে না—শুধুমাত্র ডেলিভারি কর্মীকেই দিতে হবে।
কেন এই ব্যবস্থা?
সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারি ও ভুয়ো ডেলিভারির অভিযোগ বাড়ছিল। সেই কারণেই গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার করতে এই অথেনটিকেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে নিশ্চিত হবে—সিলিন্ডার সঠিক গ্রাহকের কাছেই পৌঁছচ্ছে।
সরবরাহ নিয়ে কী বলছে সরকার?
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের কোনও ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
আগের সমস্যার সমাধান কীভাবে?
শুরুর দিকে অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছিলেন যে কোড সময়মতো আসছে না। এখন সেই সমস্যা কমাতে কোড শুধু SMS নয়, WhatsApp ও ইমেলেও পাঠানো হচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের কাছে দ্রুত কোড পৌঁছানো সহজ হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নতুন কোড-ভিত্তিক ডেলিভারি ব্যবস্থা গ্রাহকদের জন্য আরও নিরাপদ পরিষেবা নিশ্চিত করবে। সামান্য এই অতিরিক্ত ধাপই প্রতারণা রুখতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। তাই সিলিন্ডার নিতে গেলে কোডটি হাতে রাখাই এখন বাধ্যতামূলক।









