দেশ জুড়ে এলপিজি গ্যাস নিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব এবার পড়েছে ভারতের গ্যাস সরবরাহেও। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাসের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সরকার এবং তেল সংস্থাগুলি একাধিক নতুন নিয়ম চালু করেছে। আপনি যদি নিয়মিত LPG ব্যবহার করেন, তাহলে এই আপডেটগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারকেই আগে থেকে গ্যাস ব্যবহারের পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বড় পরিবার বা যাদের রান্নার চাহিদা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ সীমিত বুকিংয়ের কারণে হঠাৎ করে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
মাসে কয়টি সিলিন্ডার বুক করা যাবে?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন সাধারণ গ্রাহক প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২টি গার্হস্থ্য LPG সিলিন্ডার বুক করতে পারবেন। এর বেশি বুক করার চেষ্টা করলে সিস্টেম সেই বুকিং ব্লক করে দিতে পারে অথবা অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এই নিয়মের ফলে অপ্রয়োজনীয় মজুত বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। একই সঙ্গে সব গ্রাহকের কাছে সমানভাবে গ্যাস পৌঁছানোও সহজ হবে।

বছরে কতটি সিলিন্ডার পাওয়া যাবে?
সরকার প্রতি অর্থবছরে মোট ১২টি ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার দেয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আরও ৩টি ভর্তুকিহীন সিলিন্ডার কেনা যায়। অর্থাৎ, বছরে সর্বোচ্চ ১৫টি সিলিন্ডার পাওয়া সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের সীমা শেষ হয়ে গেলে অতিরিক্ত সিলিন্ডারের জন্য বেশি দাম দিতে হতে পারে। তাই ব্যবহার বুঝে পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বুকিংয়ের মধ্যে অপেক্ষার সময়
আগে একটি সিলিন্ডার বুক করার পর পরবর্তী বুকিং করতে ২১ দিন অপেক্ষা করতে হত। এখন সেই সময় বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। ফলে নতুন করে বুকিং করতে কিছুটা বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে। এই পরিবর্তনের ফলে হঠাৎ করে বেশি সংখ্যক বুকিং কমে যাবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
KYC এবং মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক
এখন থেকে LPG বুক করার জন্য আপডেটেড KYC থাকা বাধ্যতামূলক। KYC আপডেট না থাকলে বুকিং বাতিল হতে পারে। এছাড়া শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর দিয়েই বুকিং করা যাবে। নম্বর পরিবর্তন করলে তা দ্রুত আপডেট করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে ভুল তথ্যের কারণে বুকিং আটকে যাচ্ছে। তাই আগেই KYC আপডেট করে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন এই নিয়ম পরিবর্তন?
ভারত তার গ্যাসের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। বর্তমানে সেই অঞ্চলে অস্থিরতার কারণে সরবরাহে প্রভাব পড়ছে। তাই সবার কাছে সমানভাবে গ্যাস পৌঁছে দিতে এই নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক মাস এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। তাই এখন থেকেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
নতুন এই নিয়মগুলো আপনার দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আগেভাগেই নিয়মগুলো জেনে নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী গ্যাস বুকিং পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। নিয়ম মেনে চললে ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হবে।










