মধ্যপ্রদেশ সরকার খাদ্য সুরক্ষা আইনের অধীনে বিনামূল্যে রেশন বিতরণ প্রকল্পে স্বচ্ছতা আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, রাজ্যে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রেশন কার্ডধারীদের আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক যাচাই করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত ১৫ লক্ষ রেশন কার্ডধারীর নাম বাতিল করা হয়েছে, যারা হয়তো আর জীবিত নেই অথবা গত চার মাস ধরে রেশন সংগ্রহ করেননি।
ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব
খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে এখনও প্রায় ৮৩ লক্ষ রেশন কার্ডধারীর ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যে ৩ থেকে ৪ লক্ষ নাম জাল বা নকল হতে পারে, যেমন একাধিক স্থানে নাম নিবন্ধন, মৃত ব্যক্তির নাম থাকা, অথবা যারা দীর্ঘদিন ধরে রেশন সংগ্রহ করেননি। এইসব অযোগ্য নামগুলি তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নতুন যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে প্রকল্পের সুবিধা সঠিক হাতে পৌঁছায়।
রেশন বিতরণ ও সরকারের পরিকল্পনা
বর্তমানে রাজ্যে প্রতি মাসে ২.৯০ লক্ষ টন খাদ্যশস্য বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে ১.৭৪ লক্ষ টন চাল এবং ১.১৬ লক্ষ টন গম রয়েছে। সরকার গম সংগ্রহ সম্পন্ন হওয়ার পর কেন্দ্রের কাছে চালের কোটা কমিয়ে গমের কোটা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে, যাতে উপভোক্তারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী খাদ্যশস্য পেতে পারেন।
ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন না করলে কী হবে?
যারা এখনও ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করেননি, তাদের জন্য সরকার ৩১ মে পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এই সময়ের মধ্যে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন না করলে রেশন কার্ড বাতিল হতে পারে এবং তারা রেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই রেশন কার্ডধারীদের দ্রুত ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১: কেন ১৫ লক্ষ রেশন কার্ডধারীর নাম বাতিল করা হয়েছে?
উত্তর: এই ব্যক্তিরা হয়তো আর জীবিত নেই অথবা গত চার মাস ধরে রেশন সংগ্রহ করেননি, যা ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়ায় ধরা পড়েছে।
প্রশ্ন ২: ই-কেওয়াইসি কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: ই-কেওয়াইসি হলো আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক যাচাই প্রক্রিয়া, যা রেশন কার্ডধারীদের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং জালিয়াতি রোধ করে।
প্রশ্ন ৩: ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন না করলে কী হবে?
উত্তর: ৩১ মে’র মধ্যে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন না করলে রেশন কার্ড বাতিল হতে পারে এবং রেশন সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন ৪: রেশন বিতরণের বর্তমান অবস্থা কী?
উত্তর: প্রতি মাসে রাজ্যে ২.৯০ লক্ষ টন খাদ্যশস্য বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে চাল ও গম অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন ৫: সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
উত্তর: সরকার চালের কোটা কমিয়ে গমের কোটা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে উপভোক্তারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী খাদ্যশস্য পেতে পারেন।














