উৎসবের মরসুমের আগে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কেন্দ্র সরকারের তরফে এল এক বড় ঘোষণা। নয়া দিল্লিতে আয়োজিত GST কাউন্সিলের ৫৬তম বৈঠকে নতুন কর কাঠামো প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই পরিবর্তন কার্যকর হবে আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে বহু ক্ষেত্রেই সরলীকৃত হবে কর ব্যবস্থা, আর সোনার বাজারেও তার প্রতিফলন পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন কর কাঠামো
এখন থেকে দেশে মূলত দুটি GST স্ল্যাব কার্যকর থাকবে— ৫% ও ১৮%। অর্থাৎ আগের ১২% ও ২৮% স্ল্যাব বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ৪০% হারে কর ধার্য করা হবে। সোনা ও রুপোর ওপর আগের মতোই ৩% GST কার্যকর থাকবে, আর গয়না তৈরির চার্জের ওপর ৫% GST ধার্য হবে।
সোনার দামে প্রভাব
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সোনার বাজারে সামান্য হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি এক লক্ষ টাকার সোনা বা রূপো কেনেন, তবে তাঁকে ৩,০০০ টাকা GST দিতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে গয়না তৈরির চার্জে ৫% কর। যদিও সোনার আন্তর্জাতিক দাম, আমদানি শুল্ক ও ডলার-রুপি বিনিময় হারের মতো বিষয়গুলির ওপরও চূড়ান্ত মূল্য নির্ভর করে।
কাউন্সিল বৈঠকের গুরুত্ব
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন কাঠামোকে কর সরলীকরণের দিকে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় সব রাজ্যের অর্থমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন। তবে কিছু রাজ্য ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে। কেন্দ্রের মতে, সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ী—দু’পক্ষই এই সহজ প্রক্রিয়ার সুবিধা পাবেন।
ভোক্তার স্বস্তি নাকি রাজ্যের ক্ষতি?
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন GST ব্যবস্থায় ভোক্তাদের সুবিধা হলেও কিছু রাজ্যের আয় কমতে পারে। তবে কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও একীকরণে যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা ব্যবসায়িক পরিবেশকে সহজ করবে। উৎসবের আগে এই পরিবর্তনের ফলে সোনার বিক্রি কিছুটা বাড়বে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।
কেন সোনার দাম ওঠানামা করে?
ভারতের বাজারে সোনার দাম প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। এর পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, আমদানি শুল্ক, করের হার, ডলার-রুপির বিনিময় হার প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার শুল্ক নীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্যও সোনার দামে অস্থিরতা দেখা গিয়েছে।














