যাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই রত্না দেবনাথ ওরফে ‘অভয়ার মা’ শেষ পর্যন্ত নিন্দুকদের কড়া জবাব দিলেন মানুষের রায়েই। পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে প্রমাণ করলেন, অভিযোগ নয়—ভোটই শেষ কথা। এই জয়ের ফলে পানিহাটি কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিপুল ব্যবধানে জয়
পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রত্না দেবনাথ। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তীর্থঙ্কর ঘোষ। শুরু থেকেই গণনায় এগিয়ে ছিলেন রত্না দেবনাথ এবং শেষ পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রত্না দেবনাথ প্রায় ২০,৪০০ ভোটে জয়লাভ করেন। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তীর্থঙ্কর ঘোষ পান প্রায় ৩৫,৭০৪টি ভোট।
শুরু থেকেই এগিয়ে বিজেপি
সোমবার সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই পানিহাটিতে একতরফা লড়াই দেখা যায়। অনেকেই ভেবেছিলেন, পরবর্তী রাউন্ডে তৃণমূল ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু বাস্তবে বিজেপির লিড ক্রমশ বাড়তেই থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে বিজেপির জয় নিশ্চিত হতে শুরু করে। সেই তালিকায় প্রথম দিকেই উঠে আসে পানিহাটির নাম।
রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট
এই জয়কে শুধুমাত্র একটি আসনের সাফল্য হিসেবে দেখছে না গেরুয়া শিবির। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মতে, এটি মানুষের রায় এবং বিরোধীদের অভিযোগের সরাসরি জবাব। বিজেপি শিবিরের দাবি, পানিহাটির এই ফলাফল রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। ‘অভয়ার মা’-র জয় তাই এখন প্রতীক হয়ে উঠেছে বৃহত্তর জনসমর্থনের। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফলাফল ভবিষ্যতের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই সঙ্গে এই জয় রাজ্যে বিজেপির সংগঠন আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।









