ভোটের আবহে ফের তোলপাড় বাংলা! প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে শনিবার সকালেই হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এই তল্লাশি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে। একই সঙ্গে নিউ টাউনে ‘মিডলম্যান’ প্রসন্ন রায়ের অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। তদন্তে নতুন করে গতি এসেছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডির বড় পদক্ষেপ
শনিবার সকালেই নাকতলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছয় ইডির আধিকারিকরা। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। সূত্রের খবর, SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিয়েই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযোগ, বারবার তলব করা হলেও পার্থ হাজিরা দেননি। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তদন্ত এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি। তাই এবার সরাসরি বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পথে হাঁটল তদন্তকারী সংস্থা।

প্রসন্ন রায়ের অফিসে তল্লাশি
একই সময়ে নিউ টাউনে প্রসন্ন রায়ের অফিসেও হানা দেয় ইডি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, নিয়োগ দুর্নীতির অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে তাঁর। অফিস থেকে নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তাঁর নাম একাধিকবার উঠে এসেছে এই মামলায়।
২০২২-এর স্মৃতি ফের সামনে
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২২ সালে এই নাকতলার বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছিল, যা রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল।
কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা এলাকা
শনিবার সকাল থেকেই বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সাধারণ মানুষের প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, তল্লাশি শুরুর সময় পার্থ বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন।
ভোটের আগে তদন্তে গতি, বাড়ছে জল্পনা
রাজ্যে নির্বাচনের আগে হঠাৎ এই তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। ডিএ ইস্যুর পাশাপাশি SSC কেলেঙ্কারি ফের ভোটের ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইডির এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হতে শুরু করেছে। বিরোধীরা যেখানে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, সেখানে শাসক শিবিরও পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
SSC দুর্নীতিতে নাম জড়ানোর পর থেকেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছে শাসক দল। এবারের নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থীও করা হয়নি। তদন্তে আরও নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে বলেই মনে করছে ইডি। পাশাপাশি এই মামলার তদন্ত করছে সিবিআই-ও। তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও বড় নাম সামনে আসতে পারে বলেও জল্পনা ছড়িয়েছে।










