শেয়ার বাজারে ঝুঁকি নিতে না চাইলে সরকারি সুরক্ষিত বিনিয়োগ হিসেবে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF) এখন অন্যতম ভরসার জায়গা। বর্তমানে ৭.১ শতাংশ সুদের হারে এই স্কিম দীর্ঘমেয়াদে বিপুল রিটার্ন দিতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এই স্কিম আপনাকে অবসরের সময় মাসে প্রায় ৬১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করার সুযোগ করে দিতে পারে।
কেন পিপিএফ এখনো সেরা অপশন?
সরকার প্রতি ত্রৈমাসিকে সুদের হার ঘোষণা করলেও বর্তমানে পিপিএফে ৭.১ শতাংশ সুদই বহাল রয়েছে। এই সুদ চক্রবৃদ্ধি হারে যুক্ত হয়। অর্থাৎ প্রতি বছর সুদের ওপর আবার সুদ যোগ হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে টাকার পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই কারণে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ বিকল্প। বাজারের ওঠানামার কোনও প্রভাব না থাকায় ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

কীভাবে পাবেন মাসে ৬১ হাজার টাকা?
এই স্কিমে বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। যদি আপনি ধারাবাহিকভাবে ২৫ বছর (১৫+৫+৫) বিনিয়োগ করেন, তাহলে মোট বিনিয়োগ দাঁড়াবে প্রায় ৩৭.৫ লাখ টাকা। এই সময় শেষে আপনার মোট তহবিল প্রায় ১.৩ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। নিয়মিত বিনিয়োগ বজায় রাখলে এই লক্ষ্য সহজেই অর্জন করা সম্ভব। দীর্ঘ সময় ধরে ডিসিপ্লিন বজায় রাখাই এই স্কিমের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
সুদ থেকেই তৈরি হবে মাসিক আয়
এই ১.৩ কোটি টাকার ওপর ৭.১ শতাংশ সুদ ধরলে বছরে প্রায় ৭.৩১ লাখ টাকা আয় হবে। অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় ৬০-৬১ হাজার টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে আসতে পারে। এই আয় সম্পূর্ণ প্যাসিভ ইনকাম হিসেবে কাজ করতে পারে অবসর জীবনে।
পিপিএফের নিয়ম কী?
পিপিএফের মূল মেয়াদ ১৫ বছর। এরপর আপনি তিনটি অপশন পাবেন—
১) পুরো টাকা তুলে নেওয়া ২) ৫ বছরের জন্য বাড়ানো ৩) বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া
কর ছাড়ের সুবিধা
এই স্কিমে আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী বছরে ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যায়। এছাড়া ম্যাচিউরিটির টাকা এবং সুদ—দুটিই সম্পূর্ণ করমুক্ত। দীর্ঘমেয়াদে কর বাঁচিয়ে সম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে পিপিএফ অন্যতম কার্যকর অপশন হিসেবে ধরা হয়। বিশেষ করে বেতনভুকদের জন্য এটি ট্যাক্স প্ল্যানিং-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। নিরাপদ বিনিয়োগের সঙ্গে কর সুবিধা—এই দুইয়ের মিলেই পিপিএফ জনপ্রিয়।
আংশিক টাকা তোলার সুযোগ
এই স্কিমে ৭ বছর পর আংশিক টাকা তোলার সুবিধাও রয়েছে। ফলে প্রয়োজনে মাঝপথে কিছু টাকা ব্যবহার করা যায়। তবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই টাকা তুলতে হয়, যাতে অ্যাকাউন্টের সুবিধা বজায় থাকে। ন্যূনতম বছরে ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ টাকা জমা রাখা যায়।














