পুনের কুণ্ডমালা এলাকার ইন্দ্রায়ণী নদীর উপরে থাকা একটি পুরনো ফুটব্রিজ ভেঙে পড়ায় প্রাণ গেল অন্তত চার জনের, আহত হলেন ৫০-এর বেশি। রবিবার, ১৫ জুন বিকেল ৩:৩০ নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে, যখন সেতুটি পেরোচ্ছিলেন প্রায় ১০০-১২৫ জন। অথচ দীর্ঘদিন আগেই প্রশাসনের তরফে ব্রিজটিকে ‘অযোগ্য’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবুও তা ব্যবহার চলছিল অবাধে।
৩০ বছরের পুরনো এই লোহার-কংক্রিটের সেতুটি পুনের মাভল তালুকের শেলারওয়াড়ি ও ইন্দোরিকে যুক্ত করত। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ব্রিজটি দিয়ে শুধু পায়ে হাঁটা মানুষ নয়, বাইকও চলত নিয়মিত। ঘটনার সময় ব্রিজে স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ মানুষের ভিড় ছিল। দুর্ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এনডিআরএফ (NDRF), রাজ্য পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেড ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। প্রায় ৩৮ থেকে ৫১ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা যায়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই চার জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়, যাদের মধ্যে একজন ছিল মাত্র পাঁচ বছরের শিশু।
আহতের সংখ্যা ছিল প্রথমে ৩২, পরে তা বেড়ে হয় ৫১। গুরুতর আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করছে সরকার, এবং মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতুর নিচের কাঠামোয় ছিল ব্যাপক মরিচা ও জীর্ণতা। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয়, কয়েক মাস আগেই এই ব্রিজের পরিবর্তে একটি নতুন সেতু তৈরির প্রকল্প অনুমোদন হয়েছিল, কিন্তু কাজ শুরু হয়নি এখনও।
সরকার ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সেই সঙ্গে পুনে সহ রাজ্যের অন্যান্য পুরনো ব্রিজের অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ব্রিজ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।














