টলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় জুটি রাহুল-প্রিয়াঙ্কার জীবনের গল্পটা যেন সিনেমার মতোই ছিল—কিন্তু সেই গল্পের শেষটা এতটা মর্মান্তিক হবে, তা কেউ ভাবেনি। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শুধু ইন্ডাস্ট্রি নয়, ভেঙে পড়েছে একটি পরিবার। সবচেয়ে করুণ ছবি—ছোট্ট ছেলে সহজ এখনও বুঝতেই পারেনি, কেন তার বাবা আর ফিরছে না।
রবিবার ওড়িশা সীমান্তের তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালীন ঘটে যায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে আচমকাই সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনাই মুহূর্তে স্তব্ধ করে দেয় গোটা টলিউড।
স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন বার্তায় তিনি জানান, এই শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবে নিজের যন্ত্রণার থেকেও বেশি চিন্তিত তিনি তাঁদের সন্তান সহজকে নিয়ে। বাবার জন্য অপেক্ষা করে থাকা সেই অবুঝ শিশুর মানসিক অবস্থার কথা ভেবে তিনি সকলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন এই কঠিন সময়ে তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান জানানো হয়।

প্রিয়াঙ্কার কথায় স্পষ্ট, এই মুহূর্তে তিনি শুধু একজন অভিনেত্রী নন—তিনি একজন মা, যিনি নিজের সন্তানকে এই ভয়াবহ সত্যের মুখোমুখি করানোর লড়াই লড়ছেন। একইসঙ্গে তিনি রাহুলের বৃদ্ধা মায়ের কথাও উল্লেখ করেছেন, যিনি এই ধাক্কা সামলাতে পারছেন না। পুরো পরিবারটাই এখন গভীর শোকের মধ্যে ডুবে রয়েছে।
এদিকে, রাহুলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। প্রাথমিকভাবে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলেই মনে করা হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। সোমবার তমলুক মেডিক্যাল কলেজে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির সেই স্মরণীয় জুটি আজ যেন বাস্তবেও এক অসমাপ্ত গল্প হয়ে রয়ে গেল। পর্দার প্রেম বাস্তবেও জায়গা করে নিয়েছিল, কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই ভালোবাসার গল্প থেমে গেল মাঝপথেই। রাহুল নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি, তাঁর কাজ আর তাঁর পরিবার—এই তিনটাই আজ বাংলার মানুষের আবেগ হয়ে থাকবে।













