মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য ফের খারাপ খবর সামনে আসছে। সাম্প্রতিক এক বাজার সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকেই দেশে মোবাইল রিচার্জ প্ল্যানের দাম ১২% থেকে ১৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে জিও এবং এয়ারটেলের মতো বড় টেলিকম সংস্থাগুলি এই দাম বৃদ্ধির পথে হাঁটতে পারে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলিকম সেক্টরে প্রতিযোগিতা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। বর্তমানে বাজারে হাতে গোনা কয়েকটি সংস্থাই সক্রিয় রয়েছে, ফলে ট্যারিফ বাড়ানো এখন অনেকটাই সহজ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি দেশে দ্রুত 4G এবং 5G পরিষেবার ব্যবহার বাড়ছে, যার ফলে উচ্চগতির ইন্টারনেটের চাহিদাও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে টেলিকম সংস্থাগুলির প্রতি গ্রাহক গড় আয় ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই আয় বৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং লাভ বাড়াতে কোম্পানিগুলি রিচার্জ প্ল্যানের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
বর্তমান বাজার বিশ্লেষণ বলছে, এয়ারটেল এই ত্রৈমাসিকে সবচেয়ে বেশি নতুন গ্রাহক পেতে পারে, প্রায় ৬৫ লক্ষের মতো। অন্যদিকে দেশের বৃহত্তম টেলিকম সংস্থা জিও-র সঙ্গে যুক্ত হতে পারে প্রায় ৫০ লক্ষ নতুন ব্যবহারকারী। তবে ভোডাফোন আইডিয়ার জন্য পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন, কারণ তারা এখনও গ্রাহক হারাচ্ছে।
এছাড়াও শুধু মোবাইল ডেটা নয়, এখন ঘরে বসে হাই-স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে। জিও এবং এয়ারটেলের 5G নেটওয়ার্ক দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। এর ফলে স্ট্রিমিং, গেমিং এবং অনলাইন কাজের জন্য মানুষ এখন বেশি খরচ করতেও প্রস্তুত।
যদি সত্যিই জুলাই মাসে ১৫% পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়, তাহলে এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়বে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে ৩০০ টাকার একটি প্ল্যানের দাম বেড়ে প্রায় ৩৪৫ টাকায় পৌঁছতে পারে। সব মিলিয়ে, আগামী দিনে মোবাইল খরচ আরও বাড়তে পারে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে এই রিপোর্ট। এখন দেখার বিষয়, টেলিকম সংস্থাগুলি আদৌ এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করে কিনা এবং সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।













