সল্টলেক থেকে বনগাঁ, প্রতিদিনের যাতায়াত যেন এক যুদ্ধ। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, শ্বাসরুদ্ধ ভিড়, নিরাপত্তার অভাব—এসবই ছিল নিত্যযাত্রীদের নিত্যসঙ্গী। সেই সমস্যা কিছুটা কমাতে এগিয়ে এল পূর্ব রেল। সিউড়া বিভাগের দক্ষিণ শাখায় চালু হয়েছে পাঁচটি নতুন ইএমইউ (EMU) লোকাল ট্রেন। পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই পরিষেবা যাত্রীদের স্বস্তি এনে দিতে পারে বলেই আশাবাদী রেল কর্তৃপক্ষ।
কী কারণে নেওয়া হল এই সিদ্ধান্ত?
দীর্ঘদিন ধরেই সিউড়া ডিভিশনের দক্ষিণ শাখায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিশেষ করে অফিস টাইমে ট্রেনের ভিতরে যেভাবে ঠাসাঠাসি পরিস্থিতি তৈরি হতো, তাতে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তার ওপর মহিলাদের জন্য আলাদা কামরার বরাদ্দ নিয়েও ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা। এই পরিস্থিতিতে পূর্ব রেল সিদ্ধান্ত নেয় অতিরিক্ত পাঁচটি ইএমইউ লোকাল ট্রেন চালানোর।
কোন কোন রুটে চালু হয়েছে নতুন ট্রেন?
নতুন চালু হওয়া ট্রেনগুলি চলবে দমদম ক্যান্টনমেন্ট থেকে বনগাঁ রুটে এবং তার বিপরীতমুখী পথে। প্রতিটি স্টেশনে থামবে এই ট্রেনগুলি, ফলে ছোট ছোট স্টেশনের যাত্রীরাও সুবিধা পাবেন।
কবে থেকে শুরু হল পরিষেবা?
৫ জুন ২০২৫, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে এই পরীক্ষামূলক পরিষেবা। এই ট্রেনগুলির সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে যাত্রীরা সহজে যাতায়াত করতে পারেন।
সময়সূচি (ছাড়ার সময় → পৌঁছানোর সময়)
বনগাঁ → দমদম ক্যান্টনমেন্ট: ০৭:৪১ → ০৯:১৬
দমদম ক্যান্টনমেন্ট → বারাসত: ০৯:৪৫ → ১০:১৫
বারাসত → দমদম ক্যান্টনমেন্ট: ১৭:৩৫ → ১৮:০০
দমদম ক্যান্টনমেন্ট → বনগাঁ: ১৮:২৬ → ২০:১০
বনগাঁ → বারাসত: ২০:২০ → ২১:২৫
এটি কি স্থায়ী উদ্যোগ?
এই পরিষেবা আপাতত পরীক্ষামূলক। ভবিষ্যতে এই পরিষেবাগুলি স্থায়ী করা হবে কি না, তা নির্ভর করবে যাত্রী সাড়া এবং পরিচালনার উপর। রেল সূত্রের খবর, যদি যাত্রী সংখ্যা সন্তোষজনক হয় এবং ট্রেন পরিষেবার চাপ সহনীয় হয়, তাহলে এগুলিকে স্থায়ী করা হতে পারে।
জিজ্ঞাসা থাকলে পড়ে নিন এই ৫টি প্রশ্ন-উত্তর
১. নতুন চালু হওয়া ট্রেনগুলো কোন কোন স্টেশনে থামে?
→ প্রতিটি স্টেশনে থামে, যাতে প্রত্যেক স্তরের যাত্রীরা উপকৃত হন।
২. ট্রেনগুলি কোন তারিখ থেকে চালু হয়েছে?
→ ৫ জুন ২০২৫ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে।
৩. এই ট্রেনগুলোর পরিষেবা কি প্রতিদিন মিলবে?
→ এখনই প্রতিদিন চলবে কিনা, তা স্থির নয়। এটি পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে চালু হয়েছে।
৪. মহিলাদের জন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থা আছে কি?
→ অতিরিক্ত ট্রেন চালুর মূল কারণগুলোর মধ্যে মহিলাদের কোচ সংক্রান্ত অসন্তোষও ছিল। তাই মহিলা যাত্রীদেরও স্বস্তি মিলবে।
৫. স্থায়ী পরিষেবা কবে থেকে শুরু হতে পারে?
→ রেলের তরফে স্থায়ী পরিকল্পনা এখনও জানানো হয়নি। যাত্রী প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করে তা স্থির হবে।














