ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে বড় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজ্যে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ ছিল, যার নিষ্পত্তি শুরু হতেই সামনে এল চমকপ্রদ তথ্য। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ছে, যা রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন ফেলেছে। এই হঠাৎ পরিবর্তনে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই নিজেদের নাম তালিকায় আছে কি না তা যাচাই করতে শুরু করেছেন। প্রশাসনের উপরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চাপ বাড়ছে।
কত নাম বাদ গেল এখন পর্যন্ত?
প্রথম ধাপেই প্রায় ৬৪ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল। এরপর বিচারাধীন তালিকা থেকে আরও প্রায় ১৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। ফলে মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৮০ থেকে ৮২ লক্ষে পৌঁছেছে বলে জানা যাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
কমিশনের বর্তমান গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী, বাকি প্রায় ২০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি এখনও বাকি। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সব মিলিয়ে এই সংখ্যা ৯০ লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও বিরোধীদের দাবি, এই সংখ্যা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল।
কী বলছে নির্বাচন কমিশন?
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতেই এই পদক্ষেপ। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য আইনি পথও খোলা রাখা হয়েছে।
আপিলের সুযোগ আছে
যদি কেউ মনে করেন তাঁর নাম ভুলভাবে বাদ পড়েছে, তাহলে তিনি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
ভোটের আগে বড় প্রভাব?
২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। তার আগে ৬ এপ্রিল মনোনয়নের শেষ দিন। ৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার মনোনয়নের শেষ তারিখ। এই সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে
এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসক দল অভিযোগ করছে, বৈধ ভোটারদের নামও ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
ভোটার তালিকার এই বড় পরিবর্তন রাজ্যের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে, এই বাদ পড়া ভোটারদের সংখ্যা আসলে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। আগামী কয়েকদিনই এই ইস্যুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ভোটের আগে এই বিষয়টি রাজনৈতিক সমীকরণকেও বড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।











