পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র। মহিলাদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পাল্টা হিসেবেই এই ঘোষণা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
পটাশপুর থেকে বড় ঘোষণা
পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আগামী ১ জুন থেকেই মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসে ৩০০০ টাকা করে সরাসরি পাঠানো হবে। এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকেই একে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সরাসরি পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
শুধু মহিলাই নয়, আরও প্রতিশ্রুতি
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে শুধু মহিলাদের আর্থিক সাহায্যের কথাই বলেননি, পাশাপাশি আইসিডিএস কর্মী এবং আশাকর্মীদের বেতন বৃদ্ধির আশ্বাসও দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মীরা সঠিক পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁদের উপযুক্ত বেতন দেওয়া হবে। পাশাপাশি বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রভাব
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেন। প্রথমে ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু হলেও ধাপে ধাপে তা বেড়ে এখন ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্প রাজ্যে ভোট রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। তাই বিজেপির নতুন এই প্রতিশ্রুতি সেই কৌশলেরই পাল্টা কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক আক্রমণও তীব্র
সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ করেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের বিভিন্ন সুবিধা রাজ্যে পুরোপুরি কার্যকর করা হচ্ছে না।
আবাসন ও বিদ্যুৎ নিয়েও প্রতিশ্রুতি
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ খরচ শূন্য করা সম্ভব। পাশাপাশি আবাসন প্রকল্প নিয়েও তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাড়ি তৈরির জন্য আরও বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও নতুন করে উত্তাপ বাড়ল। মহিলাদের জন্য ৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা সময়ই বলবে। তবে এই ঘোষণা যে ভোটের আগে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে, তা স্পষ্ট।











