সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের পর জানা গেল, প্রায় ১৩ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এখনও বহু নাম বিচারাধীন রয়েছে, ফলে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
১৩ লক্ষ নাম বাদ, বাড়ছে উদ্বেগ
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারাধীন তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ১৩ লক্ষ নাম ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে। প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই তথ্য সামনে এসেছে। মোট প্রায় ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে কারা চূড়ান্তভাবে ভোটার তালিকায় থাকবেন, তা বিচার করছেন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩২ লক্ষ নামের শুনানি শেষ হয়েছে, যার মধ্যে এই ১৩ লক্ষ নাম স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মোট বাদ পড়া নাম ৭৬ লক্ষের কাছাকাছি
চূড়ান্ত হিসেব ধরলে এখনও পর্যন্ত মোট প্রায় ৭৬ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। এটি রাজ্যের ভোটার তালিকার ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে এখনও প্রায় ২৮ লক্ষ নাম নিয়ে শুনানি চলছে। ৭০৫ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে মোট কতজন ভোটার বাদ গেলেন, তার স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।
বাদ পড়লে কী করবেন?
যাঁদের নাম স্থায়ীভাবে বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য একটি সুযোগ রয়েছে। তাঁরা অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি, এবং সংশোধনের সুযোগ থাকছে।
কীভাবে শুরু হয়েছিল এই প্রক্রিয়া?
বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) শুরু হওয়ার আগে, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর খসড়া তালিকায় দেখা যায় প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এরপর শুনানির মাধ্যমে তথ্যগত অসঙ্গতি থাকা নামগুলো যাচাই করা হয়।
২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় আরও ৫ লক্ষ নাম বাদ যায়। অর্থাৎ তখন মোট ৬৩ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এবার তার সঙ্গে আরও ১৩ লক্ষ যোগ হয়ে সংখ্যা আরও বেড়েছে।
সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট নিয়ে ধোঁয়াশা
প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হয় সোমবার গভীর রাতে। যদিও আগে জানানো হয়েছিল দিনের মধ্যেই তালিকা প্রকাশ হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাত প্রায় ১২টা নাগাদ তা প্রকাশ করা হয়। তবে তালিকা প্রকাশের সময় বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা চলছে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্য রাজ্যেও এই প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে, তবে সেগুলির সমাধানও করা সম্ভব হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে বড়সড় আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এত সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। এখন দেখার, বাকি শুনানি শেষ হলে চূড়ান্ত তালিকায় কী পরিবর্তন আসে এবং কতজনের নাম শেষ পর্যন্ত তালিকায় থাকে।









