দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। ২০১৬ থেকে ২০১৯—এই চার বছরের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) একসাথে মিটিয়ে দেওয়ার ঘোষণা কার্যত নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
কারা পাচ্ছেন এই বকেয়া DA?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই বকেয়া টাকার সুবিধা পাবেন তিনটি প্রধান শ্রেণির মানুষ—
- কর্মরত রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা
- অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরা
- মৃত কর্মীদের পরিবার (ফ্যামিলি পেনশনভোগী)
২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জমে থাকা DA-এর ১০০% এককালীন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০০৮ থেকে ২০১৫ সময়কালের বকেয়া DA-র ২৫% অংশও এই পর্যায়ে মেটানো হবে।
কীভাবে দেওয়া হবে টাকা?
টাকা দেওয়ার পদ্ধতিতেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য—
- অবসরপ্রাপ্ত ও ফ্যামিলি পেনশনভোগী + গ্রুপ D কর্মী → সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (DBT)
- গ্রুপ A, B, C কর্মী → জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা
এই প্রক্রিয়ার ফলে কর্মীদের হাতে নগদ টাকা না এলেও ভবিষ্যতের সঞ্চয় হিসেবে তা জমা থাকবে।
সময়সীমা ও প্রক্রিয়া
নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩১ মার্চের মধ্যেই পুরো অর্থ ছাড়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে বিল প্রস্তুত ও যাচাইয়ের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।
অর্থ দপ্তর একটি বিশেষ পোর্টালও চালু করেছে, যেখানে কর্মীরা লগইন করে নিজেদের প্রাপ্য বকেয়া DA-এর পরিমাণ দেখতে পারবেন। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সবাই কি টাকা পাচ্ছেন?
যদিও এই ঘোষণা অনেকের কাছে স্বস্তির, তবুও কিছু ক্ষেত্রে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে—
- স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী
- পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মীরা
তাদের একাংশের দাবি, এখনও পর্যন্ত তাঁদের ক্ষেত্রে টাকা ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। তবে নবান্নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো হলে দ্রুত বিষয়টি সমাধান করা হবে।
পরবর্তী কিস্তির ইঙ্গিত
সূত্রের খবর, বকেয়া DA-এর পরবর্তী কিস্তি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়া হতে পারে। ফলে এই প্রক্রিয়া এখানেই শেষ নয়, ধাপে ধাপে বাকি অংশও মেটানো হবে। রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর জন্য বড় আর্থিক স্বস্তি। তবে বাস্তবে কত দ্রুত এবং কতটা নির্ভুলভাবে টাকা পৌঁছায়, সেটাই এখন নজরে।










